যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের মধ্যে যারা রেয়াতসহ ২০ বছর সাজাভোগ করেছেন এমন বন্দিদের মুক্তি দিতে চাচ্ছে সরকার। কয়েদির আচার-আচরণ ও কর্মের ওপর নির্ভর করেই তাদের মুক্তি দেওয়া হবে। কারাবিধির ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী সরকার কারাবন্দিদের মুক্তি দিয়ে থাকে।

গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২০ বছর কারাভোগ করেছে এমন বন্দিদের তথ্য চেয়ে কারা অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এমন কয়েদিদের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জেলখানায় বন্দি সংকুলান হচ্ছে না বিধায় সরকার এমন উদ্যাগ নিয়েছেন কিনা সে ব্যপারে মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্টরা। তবে গত কয়েকবছর ধরে জেলখানায় ঠাঁইনাই এমন খবর প্রতিনিয়ত শুনা যাচ্ছে।

তবে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মনোয়ারা ইশরাত স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে তেমন কোন আভাস পাওয়া যায় নাই। চিঠিকে বলা হয়, কারাবিধির ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী সরকার কারাবন্দিদের রেয়াতসহ ২০ বছর সাজা ভোগকারীদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাভোগরত কয়েদিদের মধ্যে যারা রেয়াতসহ ২০ বছর সাজা ভোগ করেছেন, সেসব কয়েদির মামলা সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) ও চার্জশিট প্রয়োজন। তাই আগামী সাত দিনের মধ্যে ওইসব কয়েদির তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে কয়েদি নম্বর, নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা, মামলা নং, অপরাধ ও ধারা, থানার নাম ও মন্তব্য লিখে পাঠাতে বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার প্রতিবছরই কারাবন্দিদের আচার-আচরণ, কারা ভোগ অবস্থায় তাদের অবদান, বয়স ইত্যাদি বিবেচনা করে মুক্তি দিয়ে থাকে। এবারও এমন কিছু কারাবন্দির মুক্তি দেয়ার কথা ভাবছে। এ লক্ষে কারা অধিদপ্তরে বন্দিদের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, কারা অধিদপ্তরের পাঠানো তথ্য সরকার যাচাই-বাছাই করে মুক্তির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে কারা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২০ বছরের উপরে কারাভোগ করছেন এমন ৫৪৬ জন কয়েদি রয়েছেন। এছাড়া ২০ বছরের বেশি কারাভোগ করছেন এমন আরও ১১১ জনের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেসার আলম বলেন, ‘প্রায় প্রতিবছরই সরকার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি যারা ২০ বছর ধরে কারাভোগ করছেন তাদের মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই করে অনেককে মুক্তি দিয়ে থাকে। এবারও সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কারা অধিদপ্তর থেকে এমন কোনো নির্দেশনা এখনও কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেনি। নির্দেশনা আসলে ওইসব কয়েদির তথ্য পাঠানো হবে।’

এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের উপ-মহাপরির্দশক টিপু সুলতান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের থেকে ওই সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো আমরা হাতে পায়নি। হাতে পেলে অবশ্যই দেশের বিভিন্ন কারাগারে তথ্য পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে।’

তিনি জানান, ‘দেশের সকল কারাগারের তথ্য কারা অধিদপ্তরে পৌঁছলে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর বাছাই কমিটি বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে কাদের মুক্তি দেবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

সারাদেশের মোট ৬৮টি কারাগারে ৭১ হাজার ৮০২ জন কারাবন্দি রয়েছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রয়েছে ২০ হাজার ৬৫৪ জন। এছাড়া ৫১ হাজার ৬৮ জন কয়েদির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে পলাতক রয়েছেন আরও ৮০ জন। মৃতুদণ্ড প্রাপ্ত আসামী রয়েছেন ১১০৩ জন।

এএইচ