বাগেরহাটের আব্দুল লতিফ তালুকদার, সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার ও আকরাম হোসেন খাঁনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলায় তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আজ এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ তিন আসামীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয় আযোজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে আজই দাখিল করা হবে বলে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান জানান। এ সময় তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সানাউল হক ও এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হেলাল উদ্দিন ব্রিফিংএ কথা বলেন।
কর্মকর্তারা জানান, লতিফ, সিরাজ মাস্টার ও আকরামের বিরুদ্ধে ৯টি খন্ডে প্রমাণপত্রসহ ৮৪৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এ তিনজনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও ধর্মান্তরিতকরণসহ ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে ৬৪ জন সাক্ষি রয়েছেন। গত বছরের ২১ মে এ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল গত ১০ জুন এ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এরপর ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ট্রাইব্যুনালের আদেশে তাদেরকে সেফহোমে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তদন্ত সংস্থা জানায়, গ্রেফতারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে একসঙ্গে ৪২ জনকে হত্যা এবং শতাধিক লোককে ধর্মান্তরের বিষয়ে তদন্তকালে অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৪২ জনকে হত্যার ঘটনাটি ইতিহাসে শাখারীকাঠি গণহত্যা নামে পরিচিত।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর ২০০৯ সালে নিমাই চন্দ্র দাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আব্দুল লতিফ তালুকদার, সিরাজসহ ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের আদালতে একটি মামলাটি দায়ের করেন।
ঢাকা, ২৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





