আসামী ধরাকে কেন্দ্র করে ফের র‌্যাব ও পুলিশে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। র‌্যাব বলছে, ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে দুই এএসআইসহ চারজনকে তারাই আটক করেছেন তারা। আর পুলিশ বলছে র‌্যাব নয়, পুলিশই ঘটনার সত্যতা জানার পর ওই চারজনকে আটক করেছে।

শনিবার ভোরে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে অপহরণের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন এএসআই মীর সিরাজুল ইসলাম, এএসআই কাউসার, কনস্টেবল রহমান ও গাড়ি চালক আসাদুজ্জামান।

ঘটনা সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গত শুক্রবার রাতে ভাটারা থানার একটি দল টহল ডিউটিতে বের হয়। ভাটারা থানাধীন সাইফনগর এলাকার লিটন মিয়ার বাসায় অসামাজিক কার্যাকলাপ চলছে এমন খবরে টহল পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে শাহজাহান ও বর্ষা নামে দুইজনকে আটক করে গাড়িতে তোলে।’

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে শাহজাহান ফিলিপস কোম্পানিতে কর্মরত। আর বর্ষা মুলত একাজই করে বেড়ায়। বর্ষা পতিতা হিসেবে এর আগেও কয়েকবার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জেল খেটেছিল বলে জানান তিনি।

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘শাহজাহান ও বর্ষাকে গাড়ি তোলার পর থানা হেফাজতে না নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছে। এক পর্যায়ে তাদের বলা হয়, এখান থেকে ছাড়া পেতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। তাদের কাছে টাকা না থাকায় পরিবারের কাছে জোর করে ফোন করায়। শাহজাহানের ভাগিনা আবু জাফর ৫০ হাজার টাকার কথা শুনে ভাটারা থানায় একটি ডায়েরী করেন।

তিনি বলেন, পুলিশ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সত্যতা পেয়ে ওই দুই এএসআই ও এক কনস্টেবলকে গ্রেফতার করেন। এ ব্যাপারে থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলাও হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এমন তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ভিন্ন কথা। এব্যাপারে র‌্যাব-১ এর সিও লে. কর্ণেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ দাবি করে টাইমনিউজবিডিকে বলেন, পুলিশ মিডিয়ার কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। শাহজাহান ও বর্ষাকে নিয়ে যখন পুলিশ গাড়িতে করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

যখন তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তখন প্রথমে আবু জাফর র‌্যাব-১ এর শরণাপন্ন হয়েছেন। পরে র‌্যাব তাদের কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে আটক করে। পরে তাদের মামলা অনুযায়ী ভাটারা থানায় হস্তান্তর করেন। বরং পুলিশই তাদের বিভিন্ন উপায়ে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এব্যাপারে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচাক মুফতি মাহমুদ খানের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ নয় র‌্যাবই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চার পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে। পরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে আটককৃত পুলিশ সদস্যদের হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরোয়ার হোসেনকে কয়েকবার ফোন করে পাওয়া গেলেও তিনি সংবাদ কর্মী জানতে পেরে মোবাইলফোনের লাইন কেটে দেন।

এরপর থানার ডিউটি অফিসার সৌরভ জানান, কে হস্তান্তর করেছে তা তিনি জানেন না। তবে দুই এএসআই, এক কনস্টেবল, গাড়ি চালক ও বর্ষাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জেইউ/এসএইচ