বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য যে বিধিমালার বলে নেওয়া হচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিধিমালার সেই ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মাদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন এই রুল জারি করেন।
রিটের পক্ষের আইনজীবী অনিক আর হক বলেন, ‘যে ধারাবলে তারা ঢাকা মহানগরবাসীর তথ্যগুলো নিচ্ছেন, ডিএমপি বিধিমালার সেই ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তার জবাব এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। এক সপ্তাহ পর এ বিষয়ে আবার শুনানি হবে।’
রুল জারি করলেও তথ্য সংগ্রহের ওপর কোনো প্রকার স্থগিতাদেশ দেয়নি বলে জানান আইনজীবী অনিক আর হক।
বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের জারি করা একটি নির্দেশনা স্থগিত চেয়ে এর আগে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। পরে সেই আবেদনটি ডিএমপি নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী খারিজ করে দেন আদালত। যে ধারা অনুযায়ী সেই আবেদন খারিজ করা হয়েছিল ডিএমপি বিধিমালার সেই ধারাটি চ্যালেঞ্জ করেই এই রিট আবেদন করা হয়।
রিটে ঢাকা মহানগর পুলিশ (নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা বিধিমালা ২০০৬)-এর ৪ (খ) ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ২০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের সংশিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকীসহ তিনজন।
রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট দায়েরের পর আইনজীবী অনিক আর হক বলেছিলেন, এ ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। সে হিসেবে পুলিশ রাজধানীর বাসার মালিক ও বাসার ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে একটি ফরম বিতরণ করেছে। সেখানে পুলিশ অনেক ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য চেয়েছে।
বিষয়টি সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই পুলিশকে এ বিধিমালা অনুযায়ী যেকোনো পদক্ষেপ নিতে সংবিধানের মৌলিক অধিকার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো মানতে হবে। কিন্তু পুলিশ এ বিধিমালা প্রয়োগে অপব্যাখা করছে বলে অভিযোগ করেন এ আইনজীবী।
এআইজে





