রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান জাল টাকাসহ সংঘবদ্ধ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২)।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-২ এর একটি বিশেষ দল শনিবার রাত দুটার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন আবুল কাশেম খাঁন সড়কের আবুল খাঁনের বাড়ির সামনের রাস্তার পাশ থেকে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশী এক হাজার টাকার জাল কারেন্সী নোটসহ তাকে আটক করা হয়।
আটককৃতের নাম লিটন সরদার (২৪)। তার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী থানার বাটাজোড় ইউনিয়নের সিদ্দিক সরদারের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, র্যাব-২ এর গণমাধ্যম বিষয়ক কর্মকর্তা এএসপি মারুফ আহমেদ। তিনি টাইমনিউজবিডিকে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, জাল মুদ্রা দু’ভাবে মূদ্রণ করা হয়। ভালো মানের কাগজে আঠা ও সিকিউরিটি থ্রেড বসিয়ে ভাঁজ করা হয়। এরপর স্ক্যানার ও প্রিন্টিং মেশিনের সহায়তায় সূক্ষভাবে যে কোনো মূল্যের জাল টাকা তৈরি করা হয়। এছাড়াও ওয়াশ পদ্বতিতেও জাল নোট তৈরি করা হয়।
আসল টাকার নোট ওয়াশ করে শুকানো হয়। পরে ওই নোটের ওপর টাকার অংক বসিয়ে ছাপ দেয়া হয়। যেমন ১০০ টাকার নোট ওয়াশ করে সাদা করে তার ওপর ৫০০ টাকার অংক বসিয়ে বাজারে ছাড়া হয়।
তিনি জানান, তিন ধাপে জাল টাকা বাজারে ছাড়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে পাইকারী হিসেবে এক লাখ টাকার একটি বান্ডিল ২৫-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
২য় ধাপে পাইকারি কারবারিরা আবার এসব টাকা খুচরা কারবারির কাছে ৪০-৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে।
ধাপে খুচরা কারবাবিররা এসব টাকা নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমে তা সরাসরি সুকৌশলে ঢাকার লালবাগের কেল্লা মোড়, বাবুবাজার, আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড, আজিমপুর গোরস্থান, গুলিস্থান ও কামরাঙ্গীচরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয় এবং অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বৃদ্ধ, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের লোকেরাই হচ্ছে নোট জালকারীদের মূল টার্গেট।
আটককৃতকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্র তথ্য পাওয়া গেছে। তা যাচাই বাছাই করে র্যাব-২ কর্তৃক আরো জাল টাকা বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানান এএসপি মারুফ আহমেদ।
ঢাকা, জেইউ, ২৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





