একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করবেন আগামীকাল (বুধবার)।
মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ শেষে মুজাহিদের আইনজীবী মো. শিশির মনির এ তথ্য জানান।
বেলা ৩টায় অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের নেতৃত্বে পাঁচ আইনজীবী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন। ৩টা ৫৫ মিনিটে তারা বের হয়ে আসেন।
কারাগারে যাওয়ার আগে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, রিভিউ আবেদন করার জন্য আইনি পরামর্শ করতেই মুজাহিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করে রিভিউ আবেদনের বিষয়ে দিক-নির্দেশনা নিয়ে আসেন তার আইনজীবীরা।
দু’টি মূল পয়েন্টে তারা রিভিউ চাইবেন বলে জানিয়ে শিশির মনির বলেন, প্রথমটি হচ্ছে, তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির কোনো তালিকায় তার (মুজাহিদ) নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাহলে তিনি আলবদর কমান্ডার হলেন কি করে? দ্বিতীয়টি হচ্ছে, একাত্তরের ২৩ বছরের একজন ছাত্র ও বেসামরিক ব্যক্তি কিভাবে সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর প্রধান হন?
গত ১৬ জুন মুজাহিদের আপিল মামলার সংক্ষিপ্ত চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। ৩০ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
০১ অক্টোবর এ চূড়ান্ত রায় পৌঁছে দিয়ে ট্রাইব্যুনাল থেকে জারি করা তার মৃত্যু পরোয়ানা মুজাহিদকে পড়ে শোনানো হয়। আইন অনুসারে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিন অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন মুজাহিদ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন, বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।
ওই বছরের ১১ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন তিনি। তবে সর্বোচ্চ সাজার প্রেক্ষিতে আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ।
কেএইচ





