২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বোর্ড বাজার থেকে গাজীপুরে অবস্থিত এন এ আর সুয়েটারের কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ৭২ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতি করে। একইভাবে আকিজ গ্রুপের আগামী জুন মাসের বেতনের টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করেছিল ডাকাত দলের সদস্যরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের ১৩ সদস্যকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. আবু সাঈদ, মো. মিঠু শিকদার, মো. আমিন, মো. মিজান মোল্লা ওরফে আজাদ, মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে পিন্টু, মো. বশির শিকদার, মো. স্বপন ফকির, মো. আরাফাত আহম্মেদ ওরফে অপু, মো. আ. কাদির, মো. রাজু হোসেন ওরফে বাপ্পি, মো. হুমায়ুন কবির, মো. রাজু আহম্মেদ ও মো. দাউদ হোসেন।

রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের ডিসি (ডিবি, পশ্চিম) শেখ নাজমুল আলম এ তথ্য জানান।

শেখ নাজমুল আলম বলেন, সোমবার রাতে চালানো পৃথক দুটি অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৩টি বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, ১২ ককটেল, ১ কেজি গান পাউডার, ১টি চাপাতি ও ১টি ছোরা এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ২টি মাইক্রোবাস ও ১টি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের বেড়ীবাধ সংলগ্ন বছিলা রোডের দক্ষিণ পাশে রাস্তার উপর অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় সাঈদ, মিঠু, আমিন, আজাদ, জাহিদুল, বশির, স্বপন ও আরাফাতকে গ্রেফতার করা হয়।

নাজমুল আলম বলেন, গ্রেফতারদের প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বোর্ড বাজার থেকে গাজীপুরে অবস্থিত এন এ আর সুয়েটারের কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ৭২ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতি করে। চলতি বছরের ১ জুন আকিজ গ্রুপের কর্মরত স্টাফদের বেতন-ভাতার টাকা ব্যাংক থেকে ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতিও পরিকল্পনা করে তারা। এ জন্য তারা আকিজ গ্রুপের কর্মরত কয়েকজন স্টাফদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে তারা।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা এভাবে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটাতো। পাশাপাশি ভুয়া ডিবি পুলিশের ছদ্মবেশেও ডাকাতি করে থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও এর আশপাশের থানায় একাধিক ডাকাতি, অস্ত্র ও ছিনতাই মামলা রয়েছে। তাদের অপর সহযোগিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং মোহাম্মদপুর থানায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে।

নাজমুল আলম বলেন, একই রাতে পৌনে ১১টার দিকে মতিঝিলের ৬২ দিলকুশা বা/এ এর সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সামনে দক্ষিণ পার্শ্বে এবং বঙ্গভবনের বাউন্ডারি ওয়ালের উত্তর পাশে পাকা রাস্তা থেকে কাদির, রাজু, কবির, বাপ্পি ও দাউদকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ছিনতাই করত। পরে আবার সেগুলো ব্যবহার করে পথচারীদের আটকে ছিনতাই করত। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্ত্রের মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের এডিসি (ডিবি-পশ্চিম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদ নাসের জনির নেতৃত্বে অভিযানটি চালানো হয়।

এমআর/কেএইচ