কথিত ব্যবসায়ি ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপকসহ (ডিজিএম) ছয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলীর নেতৃত্বাধীন অনুসন্ধানী টিম তাদেরকে সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ওই ছয় কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বনানী কর্পোরেট শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোশাররফ হোসেন, এজিএম নার্গিস সুলতান, এজিএম দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ সানাউল্লাহ, সিরাজুল ইসলাম ও প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আরও ৩ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা রয়েছে। এরমধ্যে ডিজিএম এটিএম আতাউর রহমান, এজিএম মনোয়ারা বেগম এবং প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম।

গত ১৩ নভেম্বর মোট নয় কর্মকর্তাকে তলব করে কৃষি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠান দুদকের এই অনুসন্ধানী টিম।

জানা যায়, চারটি বেসরকারি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান তথাকথিত ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমান। তিনি ভূয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে ঋণের আবেদনপত্রের আবেদন করেন। বাস্তবে ওই সব ঠিকানার সঙ্গে আবেদনপত্রের ঠিকানায় কোনো মিল নেই। তবে ব্যাংকেরই কিছু কর্মকর্তা ওই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো একটি অভিযোগ দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুদব তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধানী কমিটি গঠন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াহিদুর রহমান নামে-বেনামে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংক থেকে ৭৬৭ কোটি, ইসলামিক আইসিবি ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ১২৪ কোটি, সিটি ব্যাংক থেকে ছয় কোটি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা নিয়েছেন।

একে/কেএইচ