রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের প্লট দুর্নীতির মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।
দুদক সূত্রে জানা যায়, বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন গণপূর্ত সচিবের দায়িত্বে থাকাকালে অনিয়ম এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রাজউকের ৩টি প্লট নিজেদের নামে বরাদ্দ নেন।
গত ২২ এপ্রিল সচিব শওকত হোসেন, তার স্ত্রী ও মায়ের নামে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সচিব শওকতের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ৩টি মামলা করা হয়। যার নম্বর ৮, ৯ ও ১০।
১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়। আর ওই মামলার তদন্তের স্বার্থে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
৮ নম্বর মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাজউকের উত্তরা আবাসিক প্রকল্পের ১৪ নম্বর  সেক্টরে ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের মা জাকিয়া আমজাদ প্রথমে এক ব্যক্তির লিজপ্রাপ্ত ৩ কাঠার প্লট ক্রয় করেন।
পরে ওই প্লট বিমান উড্ডয়ন জোনের অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করে অন্যত্র ৫ কাঠার প্লট বরাদ্দের জন্য জাকিয়া আমজাদ রাজউকে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে সচিব শওকত হোসেনের মাকে ১৩ নম্বর সেক্টরে ৫ কাঠার একটি প্লট দেয়া হয়।
৯ নম্বর মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন ২০০১ সালে সম্প্রসারিত উত্তরা প্রকল্পে নিজের নামে ৩ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। পরে ওই ৩ কাঠার প্লটকে ৫ কাঠায় রূপান্তর করেন।
শুধু তাই নয়, তিনি আবার ওই প্লটের ২ কাঠা জমি বিক্রি করে দেন। কিন্তু ওই প্লটটি ডেভেলপমেন্টের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ কাঠার আমমোক্তারনামা দেন।
১০ নম্বর মামলার এজাহারে বলা হয়, পূর্বাচল প্রকল্পে ২০০৪ সালে সচিব শওকত হোসেনের স্ত্রী ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ আয়েশা খানমের নামে সাড়ে ৭ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। পরে ওই প্লটটি প্রথমে ১০ কাঠা এবং পরে আবার সাড়ে ১২ কাঠায় উন্নীত করেন।
কিন্তু রাজউকের বিধি অনুযায়ী, প্লট পরিবর্তন করে ওপরের স্তরে বরাদ্দ করার এবং প্লটের আয়তন বাড়ানোর কোনো নিয়ম নেই।
[b]ঢাকা, একে, ১১ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]