৭১'র মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষের (১৯তম) সর্বশেষ সাক্ষী এম ইদ্রিস আলীর জেরার কার্যক্রম আগামী রোববার পর্যন্ত মুলতবি করছে ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে এই সাক্ষীর জেরার কার্যক্রম চলছে।

এই নিয়ে পুণরায় সময় পেল এটিএম আজহারুল ইসলামের আইনজীবী। তার আগে গত বুধবার সর্বশেষ সময় বেঁধে দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু আদালতে বেঁধে দেয়া সু-নির্দিষ্ট সময়ে জেরা শেষ করতে না পারায়  আবারও সময় বেঁধে দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদালতে আজ আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার আইকে জেরা করেন।  জেরা চলাকালে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, তাপস কান্তি বল। অপরদিকে আসামীপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট শিশির মুহাম্মদ মনির ও রাইহানুল ইসলাম। গত ১৫ জুন আইও জবানবন্দি পেশ করেন।

শিশির মুহাম্মমদ মনির জানান, বুধবার ট্রাইব্যুনাল তার মৌখিক আদেশে বলেছিলেন আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে মামলার আইও'র জেরার কার্যক্রম শেষ করার জন্য কিন্তু তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাই আদালত আবারও রোববার বেলা ১২ টার মধ্যে মামলার আইও’র জেরা শেষ করতে আসামিপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন।

ইদ্রিস আলী তার জবানবন্দিতে বলেন, ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে  তদন্ত করতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বিভিন্ন লেখকের বই ও পত্র-পত্রিকা পর্যালোচনা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বই ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিবেদন সম্বলিত পত্রিকার কাটিং সংগ্রহ করেন। আদালতে তার বিস্তারিত বিবরন তুলে ধরেন।

আজহারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত ৯ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধে ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে,যার মধ্যে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) রয়েছে। অপরাধের মধ্যে রয়েছে গণহত্যা, হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষন, নির্যাতন, আটক, অপহরণ, শুরুতর জখম ও অগ্নিসংযোগ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে রাজধানীর মগবাজারস্থ নিজ বাসা থেকে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট আজহারকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে  রয়েছেন।

ঢাকা, কেএ, ৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ