উত্তরপত্র জালিয়াতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজসহ চারজনের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অন্য তিনজন হলেন জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ভাণ্ডাররক্ষক রেজাউল করিম, তাদের সহযোগী ঈশান ইমতিয়াজ ও নাজমুল আহসান। এর আগে দুই দফায় প্রথম তিনজনকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব- ৪ এর উপপরিদর্শক শ্রীবাস চন্দ্র দাস আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) নবম বিজেএস পরীক্ষা ২০১৪- এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিতরণের সঙ্গে আসামিরা জড়িত। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করে রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসির কার্যালয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে নাজমুল ছাড়া বাকি তিনজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর নাজমুলকে গ্রেফতার করে পরের দিন আদালতে হাজির করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং জালিয়াতি করে পাস করিয়ে দিতে চুক্তিবদ্ধ হতেন তারা। তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষা আইনে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে র‍্যাব তদন্ত করছে।

এ ছাড়া একই তদন্ত কর্মকর্তা মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রংপুরে তিন চিকিৎসকসহ গ্রেফতার সাতজনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছেন। এই সাতজন হলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার জিল্লুর হোসেন রনি, সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার শরিফুল ইসলাম অন্তু, সদর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান পাভেল। অন্য চারজন হলেন- রংপুরের প্রাইমেট কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল রহমান, এ ওয়ান কোচিং সেন্টারের কর্মকর্তা জামিল উদ্দিন ও আতিকুর রহমান আদিল এবং সাজরাতুল ইয়াদিন রানা।

এই সাতজনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের ওপর শুনানি হবে ৪ অক্টোবর। রংপুর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেফতার করে র‍্যাব।

কেএইচ