বৈধ কোন ব্যবসা বানিজ্য না থাকলেও মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী থানার বলই গ্রামের মো. সোলাইমান মৃধার ছেলে মো. গোলাম মোস্তফা মাত্র ৩ বছরে প্রায় ৮ কোটি টাকা লেনদেন করেন।
তবে মুন্সিগঞ্জের বালিগাঁও যমুনা ব্যাংক লি.এর সহযোগিতায় তিনি এ অর্থ লেনদেনের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মো. গোলাম মোস্তফার ওই এলাকার ' ম্যাক্সিম ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.এর নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য। কিন্তু তিনি ওই সমিতির কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ অর্থ লেনদেন করেননি। এমনকি তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও নেই্।
অবশেষে রাতারাতি কোটিপতি মো. গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৭৮ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৮ টাকা পাচারের অভিযোগে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ সহকারি পরিচালক ছাইফুল্লাহ মো. এমরান বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলানং-১২। মামলাটি ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২)(৩) ধারায় রেকর্ড করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ম্যাক্সিম ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.এর নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. গোলাম মোস্তফার নিজে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই।
তিনি ২০১০ সালে ২০ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী থানার বালিগাঁও যমুনা ব্যাংক লি.এ নিজ নামে চলতি অ্যাকাউন্ট (হিসাব নং-০০২২-০২১০০০৩৬৮৬) খোলেন। আর এ অ্যাকাউন্টে ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ কোটি ৭৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮১ টাকা নগদ অনলাইনের মাধ্যমে জমা করেন।
একই সঙ্গে আসামি মো. গোলাম মোস্তফার নিজে ৭ কোটি ৭৮ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৮ টাকা অনলাইন ব্যাংকিং এবং এটিএম কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলন করেন।
মামলার আরজিতে আরো বলা হয়, আসামি মো. গোলাম মোস্তফার নিজের এ অস্বাভাবিক লেনদেন করেন। তার আয়ের সুনিদির্ষ্ট কোনো উৎস উল্লেখ নেই। তার ওই ব্যাংক অ্যাকউন্টে সন্দেজনক ও অবৈধভাবে উপার্জিত মোটা অংকের অর্থের লেনদেন হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, মুন্সিগঞ্জ জেলার যমুনা ব্যাংক লি. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা 'চলতি অ্যাকাউন্ট (হিসাব নং-০০২২-০২১০০০৩৬৮৬)' এর লেন দেনের সঠিক রিপোর্ট দুদক সরবরাহ করেনেনি। ব্যাংকের ওই শাখা থেকে প্রথম দিকে দুদকে বিভ্রান্তিক মূলক তথ্য দেন। ওই অ্যাকাউন্টে নাকি সামান্য কিছু টাকার লেনদেন হয়েছে।
কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানী টিমের সদস্যদের কাছে গোপন সূত্রে উল্লেখিত লেন দেনের পুরো প্রতিবেদন জমা হয়। এরপর দুদকের অনুসন্ধানী টিমের সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় প্রায় ৪ মাস চেষ্টা চালিয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলার যমুনা ব্যাংক লি.এর ওই অ্যাকাউন্টে টানা ৩ বছরের লেনদেনের পুরো অফিসিয়াল রিপোর্ট সংগ্রহ করেন।
পরে ওই ব্যাংকের কর্মকর্তারা ক্ষমা চাইলে দুদক তাদের আর আসামি না করে বিষয়টি চেপে যান।
তবে কেনো ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরকে আসামি করা হয়নি এনিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে।
একে





