বিশ্ব মিডিয়ায় প্রচার পেতে দেশের ভিআইপি ব্যক্তিদের উপর হামলার পরিকল্পনা ছিল জেএমবি সদস্যদের। সেজন্য তার আর্ন্তজাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টাও করে আসছিল।
জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল্লাহ আল-তাসনিমসহ সাতজনকে আটক করার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপ-পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখা এর যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তুরাগ থানাধীন আশুলিয়া ল্যান্ডিং স্টেশন পার্র্কিং হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি-এর ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল্লাহ আল-তাসনিমসহ সাতজনকে আটক করা হয়।
আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ১০ কেজি রাসায়নিক দ্রব্য, চারটি পিতলের মূর্তি, জিহাদি বই ও লিফলেট জব্দ করেছে ডিবি সদস্যরা।
আটক গ্রেফতারকৃতরা হলো- জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য মো. নাঈম আলী(২৮), মো. সিকান্দার আলী ওরফে নকি(২৫), মাহমুদ ইবনে বাশার(২৩), মো. মাসুম বিল্লাহ(২৬), ফুয়াদ হাসান(১৮) ও আলী আহম্মদ (২৪)।
তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য ও জিহাদি বই জব্দ করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য জড়ো সংগ্রহে রেখেছিল তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মুখপাত্র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আইএসআইএস এর নজরে আসার জন্য তারা বড় ধরেণের নাশকতার পরিকল্পনা করে আসছিল।
আইএসআই-এর সান্নিধ্য পেতে জেএমবি সদস্যরা আবারো ত্রিশালের মতো বড় ঘটনা ঘটিয়ে আলোড়ন সৃষ্টির পায়তারা করে আসছিল।
মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের এইসব পরিকল্পার পিছনে আরও উদ্দেশ্য ছিল। পলাতক ও ঝিমিয়ে পড়া জেএমপি সদস্যদের চাঙ্গা করতে তারা তৎপরতা চালিয়ে আসছে।
এজন্যই তাদের প্রধান টার্গেট ছিল ভিআইপি পারসনদের জীবন নাশ করা। তারা ভিআইপিদের গাড়ী বহরে হামলা চালানোর পরিকল্পনাও করে ছিল বলে জানান তিনি।
জিজ্ঞাসবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, ইতোপূর্বে তারা বেশ কয়টি হামলার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে আইএসআইএস এর সাথে ইসলামিক স্টেট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে বলে জানা যায়।
মাওলানা সাইদুর রহমান এর অবর্তমানে বর্তমান দলনেতা তাসনীম এ বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে বলে জানান তারা।
মনিরুল ইসলাম আরও জানান, তাসনীম ওরফে নাহিদের বিরুদ্ধে গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় হত্যা, বিস্ফোরণ সংক্রান্তে ২০টির অধিক মামলা রয়েছে। দলনেতা তাসনীমের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল সোহাইল গাজীপুর কোর্টে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী।
গ্রেফতারকৃত অন্যান্য সদস্যদের মামলা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত সকলের বিরুদ্ধে তুরাগ থানার মামলা নং-১২ তারিখ-১৮/০৯১৪ ইং ধারাঃ সন্ত্রাস বিরোধী আইন/২০০৯ (সংশোধনী/১২) এর ৮/১০/১২/১৩ এবং তুরাগ থানার মামলা নং-১৩ তারিখ- ১৮/০৯/১৪ ইং ধারাঃ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য উপাদানাবলী আইনের ৪/৫ ধারায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ফারুকী হত্যার পিছনে এদের হাত রয়েছে বলেও দাবি করে মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়েছি। রিমান্ডে সব তথ্য বেড়িয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা, জেইউ, ১৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





