ঢাকার শ্যামপুরে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম লালু ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে খুন হয়েছেন বলে তার স্বজনরা দাবি করেছেন। আর এ খুনের জন্য তারা দায়ী করছেন ইউনিয়ন ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর নবী শাওনকে।

শ্যামপুরের কালা মিয়া সরদার রোডে ‘আল মক্কা ট্রেডিং’ নামে রড-সিমেন্টের একটি দোকান রয়েছে লালুর। সেই দোকানেই বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ওই এলাকায় ওলামা লীগ নেতা শাওনেরও একই ব্যবসা রয়েছে। এই ব্যবসা নিয়েই দীর্ঘ দিন ধরে লালু ও শাওনের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এর জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে লালুর স্বজনদের অভিযোগ। সেই সঙ্গে শাওনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও করেন তারা।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই বুধবার পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে শাওনকে গ্রেফতার করেছে।

নিহত লালুর ভগ্নীপতি মুকুল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ব্যবসা নিয়ে লালু ও শাওনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এ বিষয়ে এলাকার মানুষকে জিজ্ঞাসা করলে সব জানতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাওন এলাকায় চাঁদাবাজি করত, আর তাতে বাধা দিত লালু। কিছুদিন আগে একজনের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল শাওন, লালু তাতে বাধা দিয়েছিল। হয়তো এসব কারণেই শাওন লালুকে খুন করেছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন বলেন, ‘শাওনের ব্যবহার খারাপ ছিল। তাই তার দোকান থেকে কেউ মাল কিনত না। আর সে দামও বেশি রাখত। মানুষ লালুর কাছ থেকে মালামাল কিনত, আর শাওনের বিষয়ে নালিশ করত। দোকান থাকলেও মূলত চাঁদাবাজি ছিল শাওনের মূল উদ্দেশ্য। আমি যদি ব্যক্তিগতভাবে বলি, তাহলে বলব, শাওন ছাড়া এ খুন কারো পক্ষে করা সম্ভব নয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্ত্রাসের জের ধরে চার/পাঁচ বছর আগে হজরত নামে এক সন্ত্রাসী শাওনের বাম হাতের চারটি আঙুল কেটে দিয়েছিল।

এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডেমরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজি - এ দুটি বিষয় সামনে রেখে এবং আরো কয়েকটি বিষয় আমলে নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

লালুকে বৃহস্পতিবার বিকালে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে তার খুনের ঘটনায় এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই