প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে সাক্ষী হাজির করতে পারছে না বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানয়েছেন প্রসিকিউশন। গ্রীষ্মের মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে প্রসিকিউশনের অনেক সাক্ষীই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১১ তম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য ছিল।
ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ মামলার কার্যক্রম মূলতবি রাখার জন্য একটি আবেদন করা হয়। সময় আবেদনের কারণ জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল বলেন, দেশের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মামলার সাক্ষীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই গরমের মধ্যে সাক্ষীদের আনা সম্ভব হচ্ছে না।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনাদেরকে এতো লম্বা সময় দিলাম তারপরও সাক্ষী আনতে পারলেন না? যদি তাপমাত্রা কন্টিনিউ (ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে) করে তাহলে কি করবেন?
এসময় তখন প্রসিকিউটর বলেন, মনে হয় তাপমাত্রা কন্টিনিউ করবে না। তিনি বলেন, আমরা যোগাযোগ কেরে দেখেছি সাক্ষী অসুস্থ। এ সময় ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সোবহানের কাছে প্রসিকিউশনের আবেদনের বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউশনের করা আবেদনের বিষয়ে কোন আপত্তি না করে বলেন, সাক্ষী অসুস্থ থাকলে তো আর কিছু করার নাই। এ সময় ঠাট্টা করে ট্রাইব্যুনালের এক বিচারপতি বলেন, ইতোপূর্বে দেখেছি এক পক্ষ আবেদন করলে অন্যপক্ষ তাতে জোর আপত্তি জানাতেন। আজকের আবেদনে কোন আপত্তি নাই।
পরে ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ মে দিন ধার্য করেন। এর আগে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দশম সাক্ষী রতন চন্দ্র দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ২৫ এপ্রিল শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের তাপমাত্রা ৫৪ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪২.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ১৯৬০ সালের পর এটি ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সারাদেশে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আর তাপ প্রবাহে স্থবির হয়ে পড়েছে জন-জীবন।
[b]ঢাকা: কেএ ২৭ এপ্রিল(টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর
[/b]





