বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একইসথে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার জরিমানা স্থগিত করেছেন।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
মিন্নি ছাড়াও আজ অন্য আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাতের ক্ষেত্রেও একই আদেশ দিয়েছে আদালত।
গত ১৩ অক্টোবর তিন আসামির বিষয়েও একই আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই তিন আসামি হলেন- আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বী আকন, মো: হাসান এবং মো: রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: আছাদুজ্জামান রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে ৬ জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি ৬ আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ডও করা হয়। বাকি ৪ জনকে খালাস দেয়া হয় রায়ে।
নিয়মানুসারে ০৪ অক্টোবর ছয় আসামির মৃত্যুদন্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছায়। পাশাপাশি ৬ অক্টোবর মিন্নিসহ অন্য আসামিরা আপিল করে।
বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো: রাকিবুল হাসান রিফাত ওরফে রিফাত ফরাজী, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বী আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজোয়ান আলী খাঁন হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো: হাসান ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।
খালাস পেয়েছেন- মো: মুসা (পলাতক), রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো: সাগর ও কামরুল ইসলাম সাইমুন।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী জে আর খাঁন (রবিন) বলেন, ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত যখন আসামিদের মৃত্যুদন্ড দেন তখন ওই দন্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। বিচারিক আদালত থেকে নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করে একদল যুবক। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। পরে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরার পর দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়া হয়।
এমবি





