প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, ‘আপনারা বিজ্ঞ আইনজীবীরা আদালতে এসে ভেজা বিড়াল হয়ে যান আর টিভির টক-শোতে গিয়ে বড় বড় কথা বলেন। বাক স্বাধীনতার মানে এই নয় যে, যা খুশি তাই বলতে পারবেন।’

সোমবার সকালে তার নেতৃত্বাধী আপিল বেঞ্চে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আদালত অবমাননার আপিল আবেদনের শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজা নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহর দেওয়া বিবৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডেভিড বার্গম্যানের সাজার বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ যে বিবৃতি দিয়েছিলেন তার ওপর এখনো অটল আছেন কি না, যদি অটল থাকেন তাহলে এক ধরনের শুনানি হবে, আর যদি তিনি সেই মন্তব্যের বিষয় থেকে সরে আসেন তাহলে অন্য রকম শুনানি হবে।’

ডা. জাফরুল্লাহকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে সময় দেওয়া হয়। এরপর আগামীকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

আদালতে ডা. জাফরুল্লাহর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রেজাক খান ও ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ১০ জুন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার দায়ে এক ঘণ্টার কারাদণ্ড (এজলাস কক্ষে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা) এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে একমাসের কারাদণ্ড দেন জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে।

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ নাগরিক ও সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের সাজার বিষয়ে উদ্বেগজনক বিবৃতি দেওয়ায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এ সাজা হয়।

তিনি দণ্ড ভোগ করতে কাঠগড়ায় উঠতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দীর্ঘ এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট ধরে এজলাসে বাকবিতণ্ডা হয়। জাফরউল্লাহ বলেন, আপনারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ আদেশ দিয়েছেন। বিচারকরা এজলাস ত্যাগ করার পরও উচ্চকণ্ঠে তিনি বলতে থাকেন, এটা বিচারকদের অসহিষ্ণুতার লক্ষণ।

অবশেষে অনেকের অনুরোধ ও জোরাজুরিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দণ্ড ভোগ করলেও ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হয়েই ডা. জাফরুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করবেন না। তাতে যা হবার হবে। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলেও সে সময় জানিয়েছিলেন তিনি।

এএইচ