মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান তার আইনজীবীদের বলেছেন, রিভিউ শেষে আমি ন্যায় বিচার পাবো। আমি আমার সাজা থেকে খালাস পাবো।
শনিবার কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামান তার আইনজীবীদের সঙ্গে রিভিউ আবেদনের শুনানিসহ অন্যান্য আইনী বিষয়ে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন। প্রায় ৩৫ মিনিটের সাক্ষাৎ শেষে অ্যাডভোকেট শিশির মো. মনির সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
কামারুজ্জামান বলেছেন, আমি আশা করছি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ আমার রিভিউ আবেদনের শুনানী করে আমাকে সাজা থেকে খালাস প্রদান করবেন। তিনি বলেছেন, আমার আদর্শ ও স্বপ্ন এদেশের তরুন সমাজ একদিন প্রতিষ্ঠিত ও বাস্তবায়ন করবে।
বেলা ১১টার দিকে অ্যাডভোকেট শিশির মো.মনিরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল কামারুজ্জামানের সঙ্গে কারাগারের ভিতরে নির্দিষ্ট জায়গায় সাক্ষাৎ করে কথা বলেন।
এর আগে ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) কামারুজ্জামানের সঙ্গে স্বাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়।
আইনজীবী প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন, ব্যারিস্টার এহসান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকি, অ্যাডভোকেট মসিউল আলম, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন।
এদিকে আগামীকাল রোববার ৫ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৩ জুলাই কামারুজ্জামানকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে আটক করে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। একই বছর ২ আগস্ট তাকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৯ মে তার কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পরে ওই বছরের ৬ জুন কামারুজ্জামান ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
ওই আপিলের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৩ নভেম্বর তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ও বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
এআর





