রায়হান একই মাদ্রাসার বড় ভাই রনির সঙ্গে ঘুমাচ্ছিলো। রাত আড়াইটার দিকে রায়হান প্রকৃতির ডাকে বাথরুমে যায়। কিন্তু বাদ সাধে বাবুর্চী শাহ আলম। বিকৃত যৌনতা চরিতার্থ করার জন্য জোর করে বলাৎকার করার চেষ্টা করে শাহ আলম। কিন্তু রায়হান রাজি না হওয়ায় রান্না ঘরের রক্ষিত বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে শাহ আলম।

রায়হান সোজা ভাষায় বলে, এবার কিছু করলে সবাইকে সে বলে দেবে। এতে রায়হানকে জোর করে রান্না ঘরে নিয়ে যায়। সেখানেও চেষ্টা করে বলাৎকার করার জন্য। না পেরে তাকে জবাই করে হত্যা করে শাহ আলম।

গত কোরবানীর ঈদের আগেও একবার জোর করে রায়হানকে বলাৎকার করেছিল শাহ আলম। দ্বিতীয়বার একই বিকৃত যৌনতা চরিতার্থ করতে চেষ্টায় ছিলো শাহ আলম।

মঙ্গলবার বিকাল তিনটার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান এ সব কথা বলেন।

রায়হান খুনের ঘটনায় বাবা মুরাদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পরেই কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে। আবাসিক মাদ্রাসার কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর বাবুর্চি শাহ আলমকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, সোমবার ঘটনার পরপরই মাদ্রাসার ছয় শিক্ষক, চার খাদেম ও এক বাবুর্র্চীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বাবুর্চী স্বীকার করেন, রায়হানকে সেই হত্যা করেছে।

হত্যার পর শরীরে লেগে থাকা রক্ত কাপড় দিয়ে মুছে রান্না ঘরের পেছনে ফেলে দেয়। নিজেও গায়ে লেগে থাকা রক্ত পরিস্কার করে ঘুমাচ্ছিলেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, বাবুর্চী শাহ আলম এই মাদ্রাসায় পাঁচ মাস আগে কাজ করতে আসে। এর আগে সে মিরপুরের একটি মাদ্রাসায় একই কাজ করতো। সেখানেও শাহ আলম যৌন আকাঙ্খা চরিতার্থ করতো।

এরপর সে এখানে আসেন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। বাড়িতে স্ত্রী রয়েছে। তিনি এখন সন্তান সম্ভবা। শাহ আলম মাদ্রাসায় হাফেজী লাইনে পড়াশুনা করেছেন বলে জানান পুলিশ সুপার।

এর আগে উত্তরায় জুবায়ের আহাম্মেদ নামে কিউরি নামের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এক ছাত্রকে পুকুরের মধ্যে বলাৎকার করতে না পেরে আলজেরিয়ার নাগরিক তাকে হত্যা করে আবু ওবায়েদ কাদের। তিনি এখন কারাগারে অবস্থান করছেন।

জেইউ/এসএইচ