রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলের সেই বৈশাখী টেইলার্স কাটিং মাস্টার ওবায়েদুলই সুরাইয়া আক্তার রিশাকে (১৫) ছুরিকাঘাত করেছে। এমনটাই দাবি করছে সুরাইয়া আক্তার রিশার পরিবার।
এ বিষয়ে রিশার বাবা রমজান আলী রবিবার সকালে বলেন, ‘বৈশাখী টেইলার্স কাটিং মাস্টার ওবায়েদুলই রিশাকে ছুরিকাঘাত করেছে।
গত বুধবার রিশাকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) নেওয়ার পর রিশা তার মাকে এ কথা জানায়।’
গত বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় রিশাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে তাৎক্ষনিক আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। টানা চারদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকে রিশা রবিবার (২৮ আগস্ট) মারা যায়।
রিশা রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির বাংলা ভার্সনের এই ছাত্রী।
এ বিষয়ে উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাফি জানায়, সে ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে কলেজে যাচ্ছিল। এ সময় চিৎকার শুনে ফুটওভার ব্রিজের ওপরে গিয়ে রিশাকে আহত অবস্থায় দেখতে পাই এবং একজনকে দৌড়ে পালাতে দেখি।
তারপর সেখান থেকে রিশাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়।
রিশার মা তানিয়া হোসেন জানিয়েছিলেন, ৫ থেকে ৬ মাস আগে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলে বৈশাখী টেইলার্স নামে একটি টেইলার দোকানে জামা বানাতে দেয় রিশা।
ওই সময় তার মোবাইল নম্বরটিও দেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই টেইলারের দোকানের একজন কাটিং মাস্টার তার মেয়েকে প্রায়ই ফোন করে উত্ত্যক্ত করত।
পরে বাধ্য হয়ে ফোনের সে সিমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই ওই কাটিং মাস্টার তার মেয়েকে বিরক্ত করত। স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকত।
রিশার স্কুলের গণিত বিভাগের শিক্ষক ইকবাল হোসেন জানান, রিশা স্কুলে সবসময় হাসিখুশি থাকতো। তাকে কোনো রকমের শাসন করলেও সে হাসতো। খুবই চঞ্চল প্রকৃতির ছিল রিশা।
এসএম





