গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি তিতাসের এমডি প্রকৌশলী নওশাদ ইসলামের স্থাবর অস্থাবর সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


সোমবার দুদকের উপ পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মদের দফতর থেকে ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬(১) ধারায় ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী চেয়ে কাওরানবাজারে তিতাস গ্যাস কোম্পানীর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।


জানা যায়, তিতাসের এমডি প্রকৌশলী নওশাদ ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম জালিয়াতি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

এক সময় গাজীপুরে মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৩ পাতার দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে রয়েছে।

গত বছর ৩০ ডিসেম্বর ওইসব অভিযোগ এবং অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের জন্য সিদ্ধান্তের জন্য নথি উপ স্থাপন করা হয়।

পরে গত ১৩ জানুয়ারি দুদকের সমন্বীত ঢাকা জেলা কার্যালয়-২ থেকে তিতাসের দুর্নীতি পরায়ন এমডি প্রকৌশলী নওশাদ ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত নানা অনিয়ম দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদের অভিযোগ জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়।

জানা যায়, সরকার ২০১৩ সারেল ১৮ মার্চ নওশাদ ইসলামের বিরুদ্ধে আনা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে। আর ওই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু আজো ওই কমিটি প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।


অভিযোগ রয়েছে, তিতাসের সিস্টেম লস বা গ্যাস চুরির নেপথ্যে রয়েছেন 'ট্রেড ইউনিয়ন' নেতা ফারুক হাসান জোয়ার্দার। তার অন্যতম সহযোগী তিতাসের ভারপ্রাপ্ত এমডি প্রকৌশলী নওশাদ ইসলাম। তারা গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেন।

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রকৌশলী নওশাদ ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তিতাসের ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পেয়েই প্রকৌশলী নওশাদ ইসলাম তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণবদলি শুরু করেন।


আদালত দুর্নীতির মামলায় ২০০৯ সালে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয় প্রকৌশলী নওশাদ ইসলামকে। পরে তিনি আপিল করলে সাজা ৬ মাস থেকে কমিয়ে ২ মাস বহাল রাখেন আদালত। এরপর উচ্চ আদালতে মামলা স্থগিত করার জন্য একটি আপিল করেন।

কিন্তু পদন্নোতি নেয়ার সময় প্রকৌশলী নওশাদ ইসলাম ওইসব তথ্য ফাইল থেকে গায়েব করে দেন বলেও দুদকে অভিযোগ রয়েছে।
এরপরও তিনি গত ২০১১ সালে দুই দুইবার পদোন্নতি পেয়েছেন।

আরো অভিযোগ রয়েছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিনা অনুমতিতে দাতা সংস্থার শর্ত অমান্য করে ৬জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে তিতাসের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব দেয়া হয় নওশাদ ইসলামকে।

২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পেট্রোবাংলা তিতাসের মহা ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. নওশাদ ইসলামকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়।

জানা গেছে, দুদক তিতাসের আরো বেশ কয়জন কর্মকর্তার দুর্নীতি অনুসন্ধান করছে। এরমধ্যে তিতাসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হোসেন, উপ-মহাব্যবস্থাপক রফিকুল আলম এবং জুপ্রকর্মী নূরুল হক মোল্লা।
একে