একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আপিল বিভাগের রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনার) আবেদনের রায় দেয়া হবে আগামী বৃহস্পতিবার (০৫ মে)।

আজ মঙ্গলবার রিভিউ আবেদনের শুনানি করে রায়ের এ দিন ধার্য করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আদালতে আজ মাওলানা নিজামীর পক্ষে শুনানি করেন তার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল আপিল বিভাগ ৩ মে মাওলানা নিজামীর রিভিউ শুনানির দিন ধার্য করেন।

গত ৩০ মার্চ মাওলানা নিজামীর রিভিউ দ্রুত শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বিষয়টি ৩ এপ্রিল আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। ৩ এপ্রিল মাওলানা নিজামীর পক্ষে রিভিউ শুনানির জন্য ছয় সপ্তাহ সময়ের আবেদন করলে আদালত বিষয়টি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেন। এরপর গত ১০ এপ্রিল রিভিউ শুনানির জন্য মাওলানা নিজামীর আইনজীবী সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করে ৩ মে দিন ধার্য করে দেন।

এর আগে গত ২৯ মার্চ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন দায়ের করেন। ৭০ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে মোট ৪৬টি (গ্রাউন্ডে) যুক্তি দেখিয়ে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে খালাস প্রদান এবং অভিযোগ থেকে অব্যাহতির অব্যাহতির আরজি জানানো হয়।

গত ৬ জানুয়ারি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এপর গত ১৫ মার্চ মাওলানা নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে মাওলানা নিজামীকে চারটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। আপিল বিভাগের রায়ে একটি বাদ দিয়ে তিন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অপর একটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালের রায়ে নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৬টি অভিযোগে মধ্যে চারটি অভিযোগে যাবজ্জিবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। আপিল বিভাগের ঘোষিত রায়ে দুটি অভিযোগে যাবজ্জিবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। এছাড়া অপর দুটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর মাওলানা নিজামী খালাস চেয়ে আপিল আবেদন দায়ের করেন। একই বছরের ২৯ অক্টোবর মাওলানা নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দ্বায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮ টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

এর মধ্যে ৪টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ৪টি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া বাকি ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযোগগুলো থেকে অব্যাহিতি দেয়া হয়।

এমবি