ব্যাবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইসহ চার সংগঠনের করা রিট কিভাবে জনস্বার্থে?এটি জনস্বার্থে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।
আদালত বলেন, রিটে বলা হয়েছে এটা জনস্বার্থে করা হয়েছে। কিন্তু এটা কোনো দিন জনস্বার্থে হতে পারে না। আপনার সমিতিগুলো কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে।তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুতরাং জনস্বার্থে হতে পারে না।
রিটকারীদের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, আপনি বলছেন এটা জনস্বার্থে, কিন্তু আপনার পার্টিগুলো অর্থনৈতিকভাবে নিজেরা ক্ষতিগ্রস্ত। সুতরাং জনস্বার্থে রিট করা হয়েছে বলে তো আপনি সব শেষ করে দিলেন।
আদালত বলেন, সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সবকটি অনুচ্ছেদে শুধুমাত্র নাগরিকদের কথা বলা হয়েছে। কোন সমিতির কথা বলা নেই।
আদালত আরো বলেন, আপনাদের ক্ষতি হচ্ছে, শুধুমাত্র ব্যালেন্স শীট দিয়ে তো আর জনস্বার্থে রিট হবে না। সুতরাং আমরা দু:খিত। এখন আপনি কি আদেশ নিবেন, নাকি উত্থাপিত হয়নি মর্মে আরো ভাল করে প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন?
ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক স্বার্থ এর সাথে জনস্বার্থ কোন দিন এক হবে না।
এরপর আদালত এ রিটের উপর শুনানির জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেন।
রোববার ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিটিএমইএ এবং বিকেএমইএ হরতাল অবরোধের উপর বিধি নিষেধ আরোপ এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে এ রিটটি দায়ের করেন।
রিটের বিষয়ে ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম বলেন, হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার,কিন্তু অবরোধকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে রিটে।
একই সঙ্গে আরো বেশ কয়েকটি রুল চাওয়া হয়েছে আবেদনে।
“হরতালের উপর আইনগত বিধি-নিষেধ আরোপ করার ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রীয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না”।
“আগাম নোটিশ না দিয়ে হরতাল আহ্বান করাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না”।
“ক্রেডিট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর(সিআইবি) তালিকা স্থগিত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না”।
“হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্তদেরকে সরকারের ফান্ড থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না”।
“ব্যংক সুদ মওকুফ করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং ১২ বছরের জন্য সকল ঋণকে পুণ:তফসিল করার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না” মর্মে রিটে রুল চাওয়া হয়েছে।
সরকার,স্বরাস্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্ণর এবং সকল রাজনৈতিক দলকে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।
হরতাল-অবরোধে আইনগত বিধি-নিষেধের আরোপ চেয়ে করা এফবিসিসিআইসহ চারটি ব্যবসায়ী সংগঠনের রিটের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে কোনো সংগঠন আলাদাভাবে সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে রিট করতে পারে কিনা সে বিষয়েও জানতে চান আদালত।
এফবিসিসিআইসহ চারটি ব্যবসায়ী সংগঠনের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো: সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এসব প্রশ্ন করেন রিটকারীর আইনজীবীর কাছে।
পরে এরিটের পরবর্তি শুনানীর জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য করেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী।
শুনানির শুরুতেই রিটকারীদের আইনজীবীকে আদালত প্রশ্ন করে বলেন,কোনো সমিতিরই মৌলিক অধিকার নেই। তবে সে সমিতির তার সদস্যদের মৌলিক আছে। এখানে আবেদনকারী সংগঠন হলো সমিতি।তাদের মৌলিক অধিকার নেই।
আইনজীবীকে প্রশ্ন করে আদালত আরো বলেন, মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে কোন সমিতি বা সংগঠন রিট করতে পারে কি না? মামলা করার অধিকার আছে কি না?
আদালত বলেন, কোন সমিতি স্বতন্ত্রভাবে রিট করতে পারে না, তবে অন্য কারো সাথে যুক্ত হয়ে আসতে পারে।
আইনজীবী বলেন, সমিতিগুলো সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত। এখানে অনেক সদস্য। সুতরাং রিট তো করতেই পারে।
ইআর





