বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, খালেদা জিয়া সরকারী কোন টাকা আত্মসাত করেননি বাদী তা স্বীকার করেছেন। সুতরাং এই মামলা যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এতে কোন সন্দেহ নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বকশিবাজারে অবস্থিত কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠের বিশেষ আদালতে বাদীকে আংশিক জেরা শেষে পরবর্তী তারিখ (৩ আগস্ট) ধার্য হওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন।

ব্যাক্তিগত ট্রাস্টে সরকারী টাকা আত্মসাতের সুযোগ নেই দাবি করে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মামলা প্রমাণ করার জন্য অভিযোগকারীকে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু দুদক কাউকে উপস্থিত করতে পারেনি।  আমরা জেরায় দেখিয়েছি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল যা আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর বিলীন হয়ে যায়।

খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। জেরা অসমাপ্ত রেখে খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালত মুলতবির আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। প্রথমে শুনানির জন্য ৩০ জুলাই নির্ধারণ করা হলেও ওই দিন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের হাজিরার দিন থাকায় পরবর্তী শুনানি ৩ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়।

 

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। আসামিদের মধ্যে ড. কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক এবং বাকিরা জামিনে আছেন।

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত বাকি আসামিরা হলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বর্তমান বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

 

এ মামলায় জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম খান জামিনে এবং হারিছ চৌধুরী মামলার প্রথম থেকে পলাতক রয়েছেন।

 

 

এমএইচ