রাজধানীর শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে বাস চাপা দিয়ে হত্যা ও কয়েকজনকে আহত করার ঘটনায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের মালিক, চালক ও হেলপারদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামীকাল ১ ডিসেম্বর। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করবেন।

এর আগে ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।এ মামলায় ৪১ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন সাক্ষ্য দেন।

এদিন আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে হয়। এরপর আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। রায়ের দিন এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদেও আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে বাসচাপায় নিহত হন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)। আহত হয় আরও ১০-১৫ শিক্ষার্থী। ঘটনার দিনই নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

এ মামলার ছয় আসামি। এদের মধ্যে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেন কারাগারে। জাবালে নূর পরিবহনের আরেক মালিক শাহাদাত হোসেন জামিনে রয়েছেন। তার পক্ষে মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। চালকের সহকারী কাজী আসাদ এখনও পলাতক।

২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। ২৫ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন।

গত বছর ২৫ অক্টোবর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর জাবালে নুরের দুই বাসের মালিক শাহাদৎ হোসেন আকন্দ ও জাহাঙ্গীর আলম, দুই বাসচালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং দুই হেলপার এনায়েত হোসেন ও কাজী আসাদকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্য একটি বাসের চালক মো. সোহাগ আলী ও হেলপার মো. রিপন হোসেনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত বছর ২৯ জুলাই দুপুরে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ছুটি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর সড়কের হোটেল রেডিসনের অপর পাশে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের নীচে রাস্তায় বাসের ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জাবালে নুর পরিবহনের তিনটি বাসের রেশারেশিতে শিক্ষার্থীদের গায়ের ওপর বাস উঠে পড়ে। এ ঘটনায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল করিম রাজীব নিহত হন। গুরুতর আহত হন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্র সোহেল রানা, রুবাইয়া ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান চৌধুরী, মেহেদী হাসান জিসান, রাহাত, সজীব, জয়ন্তী ও তৃপ্তা। আরও কয়েকজন আহত হন যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দুই শিক্ষার্থীকে হত্যা ও কয়েকজনকে আহত করার পর ওইদিনই নিহত মীমের বাবা মো. জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

 এমএম