নব্য জেএমবি আধ্যাত্মিক নেতা এবং জেএমবির (মূল ধারার) একাংশের আমির মাওলানা আবুল কাশেমকে ৭ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার এ আদেশ দেন।

এর আগে মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আবুল কাসেমকে আদালতে হাজির করা হয়।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম তাঁকে (আবুল কাসেম) ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান।

ওই আবেদনে বলা হয়, আবুল কাসেম নব্য জেএমবির প্রশিক্ষক এবং সদস্যদের জন্য বই লিখতেন। নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা তামিম চৌধুরী ২০১৩ সালে কানাডা থেকে দেশে আসার পর রাজশাহীতে যে বৈঠক করেছিলেন, সেখানে কাসেম উপস্থিত ছিলেন।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর কাছ থেকে কাসেমের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। নব্য জেএমবির অন্য পলাতক সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য পেতে এবং গ্রেফতারে আবুল কাসেমকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

শুনানি শেষে আদালত আবুল কাসেমের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে ওই সময় আবুল কাসেমের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর সেনপাড়া পর্বতা এলাকা থেকে আবুল কাসেমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ নিয়ে আজ শুক্রবার এক সংবাদ ব্রিফিং করেন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন কাসেম। তবে এই হামলায় তাঁর সম্পৃক্ততা কোন পর্যায়ের তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেএমবির শীর্ষ নেতা মাওলানা সাইদুর রহমান ২০১০ সালে গ্রেফতার হন।

এরপর কাসেম জেএমবির বিদ্রোহী অংশের (নব্য জেএমবি) আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি তাঁর নিজস্ব মনগড়া ধর্মীয় মতবাদ দিয়ে নব্য জেএমবিকে হিংস্র করে তোলেন।

এমবি