ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদেক হোসেন খোকা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামরায় বিশেষ জজ আদালতের চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জহুরুল হকের আদালত এ চার্জ গঠনের আদেশ দেন।
জানা যায়, ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। পরে ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল দুদক সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৭৬ লাখ ২৮ হাজার ২৬১ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন ও ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ৬০৯ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগে রমনা মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করে।
২০০৮ সালের ১ জুলাই মামলাটির চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিট দাখিলের পর মামলা বাতিলের জন্য সাদেক হোসেন খোকা হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন নিম্ন আদালতের বিচার কার্যক্রম হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত ছিল।
মামলায় খোকার স্ত্রী মিসেস ইসমত আরা, ছেলে ইসরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেক আসামি ছিল। কিন্তু আদালত চার্জ গঠনের সময় খোকার ছেলে ইসরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেক অব্যাহতি দিয়েছে। এদিকে মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, খোকার ও তার পরিবারের পক্ষে দুদকে যে সম্পত্তির হিসাব বিবরণী দাখিল করা হয়েছে তা নিয়ে দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করা যায়, নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল খোকা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি অনুমোদন দেয়া হয়।
খোকার সম্পত্তির হিসাব বিবরণীতে বলা হয়েছে, খোকার নামে রাজধানীর গোপীবাগে ২টি বাড়ি, আর কে মিশন রোডে ৩য় তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি, গুলশানে ১টি ৬ তলা বাড়ি আছে।
খোকার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের নামে ৬টি ফ্ল্যাট আছে ঢাকায়। জমা দেয়া হিসাব বিবরণী অনুযায়ী খোকার নামে মুন্সীগঞ্জে প্রায় ৩২ শতাংশ, গাজীপুরে ১ হাজার ১৪২ শতাংশ জমি আছে। তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় ৮টি প্লট ও গাজীপুরে ১ হাজার ৬৭৪ শতাংশ জমি আছে বলে হিসাব বিবরণীতে রয়েছে। জমা দেয়া হিসাব বিবরণী অনুযায়ী, খোকার ছেলের নামে বসুন্ধরা সিটিতে ১টি দোকান আছে। খোকা ও তার স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকার শেয়ার আছে, শেয়ার কেনাবেচা করে তিনি আয় করেছেন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
খোকার ব্যবসায়িক মূলধণ ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তার এক ছেলের নামে ২৫ লাখ টাকার এফডিআর ও আরেক ছেলের নামে ১৫ লাখ টাকার প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র আছে। খোকার নামে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র আছে। তিনি ২টি গাড়ির (লেক্সাস ও টয়োটা) মালিক। এছাড়া খোকা আড়াই লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কারের মালিক। তার নিজ ও যৌথ নামে ২৭টি ব্যাংক হিসাব আছে। স্ত্রী ও মেয়ের নামে যথাক্রমে ১১টি ও ২টি ব্যাংক হিসাব আছে।
জানা যায়, ১৯৭৫ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত খোকা ও তার পরিবারের সদস্যরা এসব সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। অবশ্য দুদকের সরবরাহ করা এ তথ্য সঠিক নয় বলে সাদেক হোসেন খোকা এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন।
একে, জেএ





