লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ড. অভিজিৎ রায়ের সম্ভাব্য হত্যাকারীদের একটি তালিকা তৈরি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘অভিজিৎ হত্যাকারীদের একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হতে পারে। তবে অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবুর হত্যাকারীদের সঙ্গে অভিজিৎ রায়ের হত্যার কোনো সংশ্লিষ্টতাও পায়নি।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিজিৎ ও ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যার ধরণ এক। তাই ওয়াশিকুরের হত্যায় গ্রেফতারদের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলেও তাদের সন্দেহের উর্ধ্বে রাখা হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াশিকুর হত্যার ১৫ দিন আগে পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুইজন ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করে। তাদের একজন হত্যাকারীদের কাছে ওয়াশিকুরের ছবি, ফেসবুক স্ট্যাটাস ও বাসার ঠিকানা দেয়। অপরজন হত্যা মিশনে যাওয়া পাঁচজনকে প্রশিক্ষণ দেয়।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যার চারদিন আগে ২৪ মার্চ ওয়াশিকুরকে হত্যা করতে বেগুনবাড়ীতে জড়ো হতে চেয়েছিলো। কিন্ত পথের মধ্যে ওয়ারী পুলিশ চেকপোস্টে সাইফুল ইসলাম নামে একজন অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়া ওইদিন তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে তাদের একটি গ্রুপ ৩০ মার্চ সকালে তাকে বাসা চাপাতি ‍দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।’

অভিজিৎ ও ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে বলেও তিনি জানা।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে একুশে বই মেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ড. অভিজিৎ রায়কে (৩৮) চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদকেও (৩০) কুপিয়ে জখম করা হয়।

এ ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শাফিউর রহমান ফারাবী নামে একজনকে ২ মার্চ ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যা ব। তাকে এই হত্যা মামলা আসামী করা হয়।

এ ঘটনার এক মাসের মাথায় ৩০ মার্চ সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়িতে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে (২৬) চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ধাওয়া দিয়ে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ। যার মধ্য থেকে দুটি হত্যার সময় ব্যবহার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মাদ্রাসা ছাত্র জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম। তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওইদিনই খুনের দায় স্বীকার করেন।

জেএ