প্রায় ২৫ কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদের মালিক বিশ্বাস বিল্ডার্সের এমডি নজরুল ইসলাম দুলালকে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে শুধু মাত্র প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের অনুসন্ধান এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক বেনজীর আহমেদ তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করে বিষয়টি নথিভুক্ত করার সুপারিশ করেন।  

দুদক সূত্র জানায়, বিশ্বাস বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম দুলালের নামে ঢাকা,কক্সবাজার,কিশোরগঞ্জ ও রূপগঞ্জে বিপুল সম্পদ রয়েছে মর্মে অভিযোগ ওঠে।

এদিকে অতীতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে অনেকেই দুদকের মামলা থেকে রেহাই পায়নি। কিন্তু বিশ্বাস বিল্ডার্সের এমডি নজরুল ইসলাম দুলাল কালো টাকা সাদা করার দোহাই দিয়ে দুদকের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে।

বলা হচ্ছে,আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ সালের ১৯ এর ‘বি’, এর উপধারায় এ অর্থের কর দেয়া হয়েছে-মর্মে দাবি করা হয়। উক্ত ধারা অনুযায়ী আয়কর প্রদান করা হলে অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না। ফলে এ আইনের অধীনে দুদক দুলালের অবৈধ অর্থ সম্পর্কে কোনো প্রশ্নই করতে পারেনি। এ কারণে নজরুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের সন্ধান পেয়েও তার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর পরিবর্তে অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দিতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে।

নজরুল ইসলামের প্রতারণা : আরও জানা যায়, নজরুল ইসলাম দুলালের বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটির এমডি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করেন নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্সের জমির ৩৪ জন মালিককে।

চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ১ একর ৩০ শতাংশ জমিতে নির্মিত ১৭ তলা বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবনের ৪০ ভাগ ওই ৩৪ জনকে দেয়া হয়নি। ৩৪ জনের পক্ষ থেকে নজরুল ইসলামের কাছে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাকে আসামি করে একাধিক মামলাও হয়েছে। এখন জমি হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন ৩৪ ক্ষতিগ্রস্ত।

সূত্র জানায়,মৃত সুরত আলী গং প্রথমে ওই জমির মালিক ছিলেন। পরে মৃত আবদুর রহিম গং মালিক হন। উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমানে ওই জমির মালিক ৮২ জন। মালিক পক্ষের একটি অংশকে ম্যানেজ করা হলেও ৩৪ জনকে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেয়া হয় নি। চুক্তি অনুযায়ী ১৭ তলা ভবনের মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৯২৫ দশমিক ৭২৮ বর্গফুট পাবেন মালিকরা। একইভাবে নির্মাণকারী সংস্থা বিশ্বাস বিল্ডার্স পাবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৮৮৮ দশমিক ৫৯২ বর্গফুট।

নজরুল ইসলাম ১৭ জন জমির মালিকের স্বাক্ষর জাল করে মোট ৭৬ মালিক উল্লেখ করে ১ একর ৩০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করেন। প্রকৃতপক্ষে জমির মালিক ৮২ জন। এরপর জনৈক সালমা বেগমকে পুরো জমির মালিক উল্লেখ করে আরেকটি ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়। দুদকের একজন উপ-পরিচালককে জালিয়াতির এ ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ঢাকা,একে,১৫ সেপ্টম্বর.টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর