জাল সার্টিফিকেট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর দু'টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

এর আগে গত বুধবার দিবাগত রাতে ধানমন্ডি এলাকার ল্যাব এইড হাসপাতালের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এর প্রো-ভিসি বলে পরিচয়দানকারী মাসুদুর রহমান। অপর দু'জন হলেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ'র ছাত্র পরিচয়দানকারী শাকিল আহমেদ এবং সাবেক ছাত্র চঞ্চল।

তবে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করেনি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই ৩জনকে আটকের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসছে ছেড়ে দেয়ার জন্য।

এ ব্যাপারে শুক্রবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে ধানমন্ডি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী শরিফুল ইসলাম টাইমনিউজবিডি'কে বলেন,আটককৃতদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তারা ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকায় বিবিএ এবং এমবিএ' এর সার্টিফিকেট বিক্রি করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২-৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বিবিএ ও এমবিএ' এর অরিজিনাল সার্টিফিকেট প্রদান করে আসছে। এ ক্ষেত্রে তারা ব্যাক ডেইটের তারিখ দেখিয়ে এই সার্টিফিকেট প্রদান করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযোগ আসলে অনুসন্ধান করে টাকা লেনদেনের সময় হাতেনাতে শাকিল নামে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রকে আটক করা হয়। পরে শাকিলের তথ্যের ভিত্তিতে ড্যাফোডিলের সাবেক ছাত্র বলে পরিচয়দানকারী চঞ্চলকে এবং আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এর প্রো-ভিসি পরিচয়দানকারী মাসুদুর রহমানকে আটক করা হয়।

উপ-পরিদর্শক কাজী শরিফুল আরও জানান, এরপর ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে এক সপ্তাহের রিমান্ড মঞ্জুর এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া জাল সার্টিফিকেট তৈরি ও বিক্রির বিষয়টি তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ আদালতের কাছে গ্রেফতারকৃতদের জেলহাজতে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।

ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দীক টাইমনিউজবিডিকে বলেন,আদালতের নির্দেশনা আমাদের কাছে এখনো পৌঁছেনি। আদালতের নির্দেশনা আসলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো। খোঁজ-খবর নিবো তারা আদৌ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত কিনা। এছাড়া এই জালিয়াতি চক্রের সাথে অন্য কারা কারা জড়িত রয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে।

বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হলেও কেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করছে না পুলিশ জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি বৃহত্তর স্বার্থে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে মামলা করা হবে। আপাতত তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলেহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা, জেইউ, ১০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ