গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে শিশু ইয়াসিন অপহরণের ঘটনায় ৪ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অপহরণের সঙ্গে জড়িত এক নারীসহ চারজনকে টঙ্গী ও সাভার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, খন্দকার জামিল হোসেন (২৬), মুক্তার হোসেন (১৭), মোহম্মদ হৃদয় (২০) ও মারুফা (২৩) এবং মারুফা আক্তারকে (২৩)। অপহৃত শিশু ইয়সিনকে মারুফার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়।

রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব ১-এর সিও তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ।

তিনি বলেন, গত ৫ নভেম্বর গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানাধীন বৌবাজারস্থ জনৈক আমানুল্লাহ র‌্যাব-১-এর নিকট অভিযোগ করেন যে, তার শিশুপুত্র মোঃ ইয়াসিনকে (০৬) অজ্ঞাত লোক অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এরপর তার কাছ থেকে মোবাইলফোনে কল দিয়ে তার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে র‌্যাব-১ অপহৃত শিশু ইয়াসিনকে (০৬) উদ্ধারে তৎপর হয়।

গোয়েন্দা তৎপরতা এবং তল্লাশি অভিযানের পর গত শনিবার রাতে পৌনে ৯টায় সাভারের তেতুলজোড়াস্থ একটি মেস হতে অপহরণকারী চক্রের সদস্য খন্দকার জামিল হোসেন (২৬), মোঃ মোক্তার হোসেন (১৭) মোঃ হৃদয়কে (২০) আটক করা হয়। পরে মোছাঃ মারুফা আক্তারকে (২৩) টঙ্গি এলাকা আটক করা হয়।

তিনি জানান, তদন্তে জানা গেছে অপহৃত শিশুর বাবা আমানুল্লাহর পূর্ব পরিচিত মারুফা। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের বাড়িতে বেড়াতে যায় এবং শিশু ইয়াসিনকে (০৬) প্রলুদ্ধ করে ভুল বুঝিয়ে তার বাসা মাজুখানে নিয়ে যায়। সেখানে এ চক্রের অন্যান্য সদস্যরা মিলে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরে চলে যায়।

সেখান থেকে তারা ইয়াসিনের পিতা আমানুল্লাহ ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করতে থাকে অন্যথায় শিশু ইয়াসিনকে (০৬) হত্যা করার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে তারা স্থান পরিবর্তন করে সাভারে একটি মেসে বাসা ভাড়া করে এবং সেখানে অপহরণকারীরা অপহৃত শিশুকে নিয়ে অবস্থান করে। অপহরণকারী জামিল, হৃদয় এবং মোক্তার মুক্তি পণের টাকা গ্রহণ করতে টঙ্গী, এরশাদ নগরে এলে তারা র‌্যাবের ফাঁদে পড়ে এবং হাতে নাতে আটক হয়। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্য মতে অপহৃত শিশু ইয়াসিনকে (০৬) সাভারের তেতুলজোড়াস্থ একটি মেস হতে উদ্ধার পূর্বক অপহরণ চক্রের মহিলা সদস্য মোছাঃ মারুফা আক্তারকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

জেইউ/কেএইচ