আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ি এবং  ডিফেন্স এ্যাডভান্সমেন্ট এন্ড ট্রেডিং   কোম্পানী (ড্যাটকো) চেয়ারম্যান ড. মুসা বিন শমসের এবং  অপর এক ব্যবসায়ি কেএম শহিদুল্লাহকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বৃহস্পতিবার দুদকের সিনিয়র উপ পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী ওই জনকে তলবি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

এবিষয়টি নিশ্চিত করেছেন  দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

নোটিশে আগামী ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় ড. মুসা বিন শমসেরকে এবং আগামী ১১ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় মের্সাস ডাইনস্টেকি বিজনেস হাউসের মালকি ও  দৈনিক পথযাত্রার  মালিক কেএম শহিদুল্লাহকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় আরো ৮/১০ জনকে তলব করার সিদ্ধান্ত রয়েছে দুদকের।

দুদক সূত্রে জানা যায়, বিদেশে সুইস ব্যাংকে ড. মুসা বিন শমসের  আটকা পড়ে থাকা ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ  বাংলাদেশী ৫১ হাজার  কোটি টাকা ফিরিয়ে আনা এবং বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য তলবি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আর মের্সাস ডাইনস্টেকি বিজনেজ হাউসের মালকি  কেএম  শহিদুল্লাহর এ্যাকাউন্টে বিপলি পরিমান অর্থ লেন দেনে মুসা বিন শমসেরের সম্পর্ক রয়েছে। যারফলে তাকে সাক্ষ্যি হিসেবে দুদক আগামী ১১ নভেম্বর তলব করেছে।

দুদকের নোটিশ মুসা বিন শমসেরের অফিস বাড়িনং-৫৭,রোডনং-১, ব্লকনং- ১ বনানী ঢাকা এবং বাসা দি ঢাকা প্যালেস বাড়িনং-১৫, রোডনং-৮৪ গুলশান-২ ঠিকানায় পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কেএম শহিদুল্লাহর অফিস ১৮ কামাল আতাতুর্ক এ্যাভিনিউ বনানীর ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়।

জানা যায়, মুসা বিন শমসেরি ফরিদপুর জলোর নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের কাজীকান্দা-হিয়াবলদী গ্রামের  বাসিন্দা। তার শশুর বাড়ি পাবনায়।

বর্তমানে ড. মুসা বিন শমসেরের ৭ বিলিয়ন ডলারের একাউন্ট ফ্রিজ রয়েছে সুইস ব্যাংকে। অনিয়মিত লেনদেনের অভিযোগে ওই হিসাব জব্দ করে সুইস কর্তৃপক্ষ। মুসাবিন শমসের একটি কলম বানিয়েছেন ৭ হাজার ২৫০ টি  ছোট  ছোট হীরা দিয়ে । এ কলম দিয়েই মুসা সব গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজ,চুক্তি,ইত্যাদি স্বাক্ষর করে থাকে।  তার হীরক খচিত জুতো রয়েছে অসংখ্য ।

১৯৯৭ সালে ড. মুসা বিন শমসের তার ইউরোপিয়ান সদর দপ্তর হিসেবে একবার আয়ারল্যান্ডের কালকিনি দুর্গ কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সফল হননি। মুসা বর্তমান বাস করছেন গুলশানে অবস্থিত তার প্রাসাদোপম বাড়িতে। এ বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই পার্টি থাকে।  সেখানে সবসময় তার  দেশি  বেদেশি হাইপ্রোফাইল মেহমান উপস্থিত থাকেন।

জানা যায়, ড. মুসা ১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম তার বন্ধু ব্রিটেনের বিরোধী দলীয়  নেতা (পরে প্রধানমন্ত্রী) টনিব্লেয়ারের নির্বাচনী ফান্ডে ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান  দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্ব দরবারে আলোচনায় উঠে আসেন। একজন বিদেশী নাগরিক হওয়ায় টনিব্লেয়ার অবশ্য  সে অনুদান গ্রহণ করেননি। তার পরে নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে এ ব্যবসায়ী মাঝে মধ্যেই বিশ্ব মিডিয়ার আলোচনায় স্থান পান।

একে,