ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে বরিশালে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এনিয়ে ১৪টি মামলা হলো তার নামে।

বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ২৯৮ ধারায় নালিশি দরখাস্তটি করেন বরিশালের অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন মামলাটি আমলে নিয়ে আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আদেশে ২৬ নভেম্বর আবদুল লতিফকে আদালতে স্ব-শরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুরে আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ২৯৫ (ক)/২৯৮ ধারায় মামলা করেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল আলম ফুয়াদ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নূসরাত জাহান মামলাটি আমলে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল আলম ফুয়াদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নির্দেশ অনুযায়ী এই মামলায় ২৮ ডিসেম্বর আবদুল লতিফকে স্ব-শরীরে আদালতে হাজির হতে হবে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার নিউইয়র্কে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতির এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী।

লতিফ সিদ্দিকীর ওই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ওই ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, এ হজে যে কতো ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। এই হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছেন। এদের কোনো কাজ নাই। কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।’

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে তিনি বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় ‘সরকারের কেউ নন’।

একজন সাংবাদিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভূমিকা নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। 'জয় ভাই' কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ারও কেউ নন।

এএইচ