নাশকতার তিন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু আদালাত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন এই আদেশ দেন।
আদেশ প্রদানকালে মহানগর হাকিম বলেন, যেহেতু মির্জা ফখরুলকে উচ্চ আদালত জামিন দেয়নি এবং তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধিও করেনি তাই তাকে জামিন দেয়ার জুরিসডিকশন (এখতিয়ার) তার নেই।
তবে, মির্জা ফখরুলের শারিরীক অবস্থার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে ও তার চলমান চিকিৎসার দিকে বিশেষ নজর রাখতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিকে, মির্জা ফখরুলকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দের্শের তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় আদালত এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
মির্জা ফখরুলের আইনজীবী সানাউল্লহ মিয়া বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পল্টন থানার তিনটি মামলায় আজ বেলা আড়াইটার দিকে মির্জা ফখরুল নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তা নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে ফখরুলের জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের শুনানি হয়। কিন্তু আদালত তাঁর জামিনের মেয়াদ বাড়াননি। এতে তিনি আজ বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
এর আগে গত ১৩ জুলাই শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে মির্জা ফখরুলকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন ছয় সপ্তাহের জন্য বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পরে দুই দফায় তাঁর জামিনের মেয়াদ বাড়ান আদালত।
চলতি বছরের শুরুতে ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার ঘটনা ঘটে।
৬ জানুয়ারি মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে নাশকতার অভিযোগে পল্টন ও মতিঝিল থানার সাতটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে পল্টন থানার মামলা ছয়টি ও মতিঝিল থানার একটি। সব মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।
১৪ জুলাই তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। দেশে ফেরেন সেপ্টেম্বরে।
এদিকে, মির্জা ফখরুলকে কারাগারে পাঠানোর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করেন দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন।
তিনি বলেন, পুনরায় কারাগারে পাঠানোর ফলে মির্জা ফখরুলের শারীরিক অবস্থার কোন ধরনের অবনতি হলে তার জন্য সরকারই দায়ী থাকবে।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১টার দিকে সুপ্রিমকোর্ট থেকে ফখরুল এই তিন আইনজীবীসহ নিম্ন আদালতের দিকে রওনা দেন।
গতকাল আপিল বিভাগ বিএনপির এ নেতাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। ফখরুলের করা আত্মসমর্পণের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মামলায় হাইকোর্টে দেয়া রুল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন আদালত।
জানতে চাইলে মির্জা ফখরুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন বলেন, ‘এ তিন মামলায় হাইকোর্ট যে রুল জারি করেছেন তা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।’
গত ২৮ অক্টোবর গাড়ি পোড়ানো ও নাশকতার তিন মামলায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে সুপ্রিমকোর্টে আট সপ্তাহ সময়ের প্রার্থনা করেছিলেন বিএনপির এই নেতা।
এমআর, কেবি





