জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান ওমরকে (বীরউত্তম) অব্যাহতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ-১ এর উপপরিচালক ঋত্বিক সাহার সই করা এক চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের এ তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, শাহজাহান ওমরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আসলে দুদক তা আমলে নিয়ে ২০১২ সালে অনুসন্ধান শুরু করে। উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ অভিযোগের অনুসন্ধান করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানকালে তাঁকে দুদকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। অনুসন্ধান শেষে তাঁর অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

এর আগে এক এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর শাহজাহান ওমর, তাঁর স্ত্রী মেহজাবিন ফারজানা এবং ছেলে আদনান ওমরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে মিথ্যা সম্পদ বিবরণী দেওয়ার অভিযোগে মামলা করে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ মেসবাহ উদ্দিন গুলশান থানায় ওই মামলাটি করেন।

ওই মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, অভিযুক্তরা দুদকে সম্পদের যে হিসাব জমা দেন সেখানে তারা ৪৬ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে ২ কোটি ৬ লাখ ১৫ হাজার ৮০৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের খোঁজ পাওয়া যায়।

এরপর ২০০৮ সালের মে মাসে শাহজাহান ওমরকে ১৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক। আর দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার অপরাধে তাঁর স্ত্রী মেহজাবিন ফারজানাকে তিন বছর কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং

অনাদায়েআরো ছয় মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় শাহজাহান ওমরের ছেলে আদনান ওমরকে মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়। শাহজাহান ওমর এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক।

 

এআই