আমলা ও জনপ্রতিনিধিদের স্বার্থ রক্ষা কিংবা সচিবদের নিয়ে কোরাম করার চেষ্টা করা হবে না বলে মন্তব্য করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদ্য যোগদানকারী ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান। তিনি বলেন, কমিশনের মর্যাদা এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাবেন।
বুধবার দুপুরে দুদক মিডিয়াসেন্টারে মাসিক প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ৫ সচিবের বিরুদ্ধে কেনো দুদক মামলা না করে মন্ত্রণালয়ের উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে দুদক ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কমিশন মন্ত্রণালয়ের উপর দায়িত্ব দেয়াকে সঠিক মনে করেছে। দুদকের প্রতিবেদনের পর মন্ত্রণালয় ওই ৫ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করেছে।
পদ্মা সেতু পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত না পাওয়ায় এবং আলোচিত রমেশের ডাইরী উদ্ধার না হওয়ায় কমিশন এ মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংকও এখন বলছে দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত্ব তাদের কাছে নেই।
দুদকের করা অবৈধ সম্পদের মামলার আসামি কক্সবাজারের এমপি আবদুর রহমান বদি সম্পতি দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের দুর্নীতির মুখোশ উন্মোনের থ্রেট এবং মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এ বিষয়টি তার জানা নেই। যারফলে তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য করবে না বলে জানান।
রাজশাহীর এমপি এনামুল হকের পক্ষ থেকে দুদকের কর্মকর্তা যতন কুমার রায়কে হাওয়া করে দেয়ার হুমকি প্রসঙ্গে দুদক ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে।
দুদকের সাবেক সচিব দেলোয়ার হোসেন ২০০৭ সালে নিজের অধিকতর স্বচ্ছতার স্বার্থে মিডিয়ার সামনে তার সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেন।ফলে বর্তমান দুদক ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান কি তার সম্পদ বিবরণী মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তার আয়কর প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এছাড়া প্রতি ৫ বছর পর সরকারি কর্মকর্তারা সম্পদ বিবরণী সংশ্লিস্ট দফতরে জমা দেন। কিন্তু দুদকে তার সম্পদ বিবরণী জমা দেয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো জবাব দেননি।
রাজউক থেকে প্লট পেয়েছেন কিনা প্রসঙ্গে দুদক ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, কেরানীগঞ্জে ঝিলমিল প্রকল্পে ৩ কাঠার একটি প্লট পেয়েছেন।
দুদক ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান গত আগস্ট মাসের কার্যক্রমের বিবরণীতে বলেন,অভিযোগ পেয়েছেন ৮৬৫টি, অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেন ৫১টি, মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ৩টি।
তিনি বলেন, আগস্টে ৪৯ জনের বিরুদ্ধ ১৮টি মামলার অনুমোদন, ২৮ জনের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলার চার্জশিট অনুমোদন এবং ১৭ মামরার ফাইনার রিপোর্ট অনুমোদন দেয়া হয়। আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ মামলার এরমধ্যে ২ মামলায় সাজা এবং ৮ মামলা খালাস হয়েছে।
ঢাকা,একে, ১৭ সেপ্টেম্বর. টাইমনিউজবিডি.কম,এসআর





