দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম রেলওয়ে থানা পুলিশকে এ নির্দেশ দেন।

এর আগে, ৭১’ টেলিভিশনের আহত সাংবাদিক মঞ্জুর মোর্শেদ খান রিয়েনের বাবা মাহবুব মোর্শেদ খান জেম বুধবার দুপুরে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- পশ্চিাঞ্চল রেলওয়ের জিএম আব্দুল আওয়াল ভুঞা, ডিআরএম আরিফুজ্জামান, স্টেশন মাস্টার গাজী গোলাম ফেরদৌস ও গার্ড আব্দুর রউফ।

বাদী মাহবুব মোর্শেদ খান জেম পাবনা জেলার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পূর্ব টেংরীর মৃত মাহবুব আহমেদের ছেলে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদী থেকে তার ছেলে সাংবাদিক মঞ্জুর মোর্শেদ খান রিয়েন ও তার বৌমা ডা. রুমানা আহমেদ অসুস্থ শরীর নিয়ে ট্রেন যোগে ঢাকা যাচ্ছিলেন।

রেলওয়ে গার্ড ও মামলার ১নং আসামী ইচ্ছাকৃত ভাবে ট্রেনটি প্লাটফর্মের বাইরে তিনটি কম্পার্টমেন্ট মাঠের মধ্যে দাঁড় করায়।

এছাড়া ট্রেনের তিনটি কম্পার্টমেন্টে ওঠার চারটি দরজা থাকলেও মাত্র একটি দরজা খোলা রাখা হয়। ওয়াকিটকির দ্বারা ট্রেনের চালককে ট্রেনের বাদ পড়া তিনটি বগি প্লাটফর্মে আনার অনুরোধ করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এ সময় ট্রেনে উঠতে গিয়ে বাদীর ছেলে সাংবাদিক রিয়েন মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। দীর্ঘদিন রিয়েন ঢাকার সমরিতা ও স্কয়ার হসপিটালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার চিরতরে পঙ্গু হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে তিনি পাবনা সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে এ মামলা দায়ের করেছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেবাউল হাসান বলেন, "রিয়েনের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে, রেলওয়ে আইনে এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর প্রতিকার চাইতে আমরা বিজ্ঞ আদালতের দারস্থ হয়েছি। জনস্বার্থেই এই ধরণের মামলা দায়ের করা হয়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। কেননা রেল এ দেশের মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন।"

দায়েরকৃত এই মামলায় সুবিচার পাবেন আশা প্রকাশ করে সাংবাদিক মঞ্জুর মোর্শেদ খান রিয়েন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, "আমি চাই- পুলিশ যেন ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করেন।" কোনো মহলের চাপে পুলিশ যেন প্রভাবিত না হন, এ জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছেও অনুরোধ করেছেন সাংবাদিক রিয়েন।

জেএ