চুরি ও মারামারির একটি মামলায় ১১ মাসের শিশু ও মৃত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার ঘটনায় মামলার বাদী এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম এই আদেশ দেন।
ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনিসুর রহমান বিষয়টি জানিয়ে বলেন, আজ বিচারক মামলাটিকে আবার তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত রোববার এই আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মারুফুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে লিখিত আবেদন করেন।
চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মারুফুল ইসলাম ওই শিশু ও আরিফুর রহমান নামের এক মৃত ব্যক্তিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম মামলার আইও ও বাদীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চেয়ে আদালতে একটি আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, যে শিশুটিকে আসামি করা হয়, সে গত বছরের ৬ জুন জন্মগ্রহণ করে। অপরদিকে আরিফুর রহমান ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৬ জুন মিরপুরের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মামলা করেন। মামলার সময় শিশুটির বয়স ছিল ২০ দিন। আর আরিফুর রহমান ঘটনার ৩ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন।
নবজাতকের বাবা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছোট ছেলের বয়স ১১ মাস। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ২০ দিন। কীভাবে এত ছোট বাচ্চা মারামারি করতে পারে আর কীভাবে চুরিই করতে পারে।’
এই মামলায় শিশুটির বয়স ৩০ বছর দেখানো হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা হলেন মিরপুর থানার এসআই মারুফুল ইসলাম। প্রত্যাহার করা দুই কর্মকর্তা হলেন- থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাজ্জাদ হোসেন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) কাজী মাহবুবুল আলম।
এমবি





