আরো অন্তত ৯ জঙ্গিকে খুঁজছে পুলিশ-গোয়েন্দারা। এ ৯ জনই কল্যাণপুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি। এরমধ্যে কয়েকজন বিদেশে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দারা জানিয়েছে, যারা দেশে আছে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ দিকে কল্যাণপুরে নিহত ৯ জঙ্গির বাকি একজনেরও পরিচয় মিলেছে। কল্যাণপুরে তাজ মঞ্জিল বসবাসকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে পুলিশ।
সামনে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও সেখানে বসবাসকারীরা যাতায়াত করতে পারছে। এ দিকে নিহত জঙ্গিদের লাশ হাসপাতালেই রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত একটি লাশেরও কোনো দাবিদার মর্গে আসেননি। ৯টি লাশের মধ্যে এখনো একটি অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পড়ে আছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এই মুহূর্তে আরো অন্তত ৯ জঙ্গিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ-গোয়েন্দারা। এই ৯ জনই কল্যাণপুরের ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলার আসামি। পুলিশ সূত্র জানায়, কল্যাণপুরের ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় আসামিরা হলো রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, ইকবাল, তামিম চৌধুরী, রিপন, খালিদ, মামুন, মানিক, জুনায়েদ খান, বাদল ও আজাদুল ওরফে কবিরাজ। এরমধ্যে রাকিুবল হাসান রিগ্যান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার রাতে কল্যাণপুরের বাসা থেকে লাফিয়ে পড়ে পালানোর চেষ্টা করে হাসান। তখন সে পুলিশের গুলিতে আহত হয়। বাকি ৯ জন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পুলিশ জানায়, হাসানের দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী মামলার এজাহারে ওই ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। নিহতদের সাথে বিভিন্ন সময় ওই ৯ জনও কল্যাণপুরের ওই বাসায় যেত বলে হাসান পুলিশকে জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, এই ৯ জন কারা সে সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। জঙ্গিরা একেক সময় একেক নাম ধারণ করে। যে নামে মামলা হয়েছে আসলেই জঙ্গিরা ওই নামে পরিচিত কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমনও হতে পারে যারা নিহত হয়েছে তাদের মধ্যেও কেউ ওই নামে হাসানের কাছে পরিচিত ছিল।
এ দিকে একটি সূত্র বলেছে, যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন দেশের বাইরে অবস্থান করছে। এমনকি গত ১ জুলাই গুলশান আর্টিজানে হামলার পর বিদেশ থেকে যে ভিডিও বার্তা দেয়া হয়েছে তার মধ্যেও একজন রয়েছে।
এ দিকে কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিং নামে পরিচিত তাজ মঞ্জিলটি খুলে দেয়া হয়েছে বসবাসকারীদের জন্য। গতকাল সকাল থেকে সেখানে বসবাসকারীদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এই বাড়িরই পাঁচ তলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছিল, যেখানে পুলিশের অভিযানে নিহত হয় ৯ জন। ঘটনার পর বাড়ির বাসিন্দাদের বের করে দেয়া হয়েছিল। গতকাল সকালে তাদের ওই বাসায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, তারা বাসায় প্রবেশ করতে পারলেও চরম ভয়ের মধ্যে আছেন। ইতোমধ্যে পুলিশকে তথ্য না দিয়ে বাসা ভাড়া দেয়ার অভিযোগে বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় আচরণ রহস্যজনক হওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে চার ভাড়াটেকে। তাদের রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতাল মর্গে গতকাল পর্যন্ত কেউ যায়নি লাশের দাবি নিয়ে। ৯টি লাশের মধ্যে আটটির পরিচয় নিশ্চিত হলেও লাশগুলো নেয়ার জন্য কেউ দাবি করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। একটি লাশের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ পায়নি। তবে মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, পুলিশের কাছে জোবায়ের ও অর্কের বাবা এসেছিলেন লাশের দাবি নিয়ে।
গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ কল্যাণপুরের ৫ নম্বর রোডের জাহাজ বিল্ডিংয়ে অভিযান চালায়। সেখানে জঙ্গি অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এক ঘণ্টার অভিযানে সেখানে নিহত হয় ৯ জঙ্গি। একজনকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার করে পুলিশ। একজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এমবি





