রাজধানীর ভাষানটেক থেকে ভাষানটেক থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম সম্পাদক মিনহাজুল আবেদিনসহ ১৫ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভাষানটেকের পিআরপি স্কুলের পেছনসহ বেশ কয়েকটি মাদক স্পটে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।

ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর ছাব্বির আহম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃতদের রাত সাড়ে ১০ টার দিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজনের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ও গাজা উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইন আনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ওসি মীর ছাব্বির জানান, মিনহাজুল আবদিন মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণও করেন এবং নিজেও মাদক সেবন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভাষানটেক থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। বুধবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। এ ছাড়া পিআরপি স্কুলের আশপাশ থেকে অন্তত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার ১৪ জনের সম্পর্ক তথ্য যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিরপুর ১৪ নম্বর মোড়সংলগ্ন খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা বাগানবাড়ি বস্তিতে গাঁজা ও ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী বাচ্চু মিয়াকে মাদকসহ কিছুদিন আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কয়েক দিন আগে তিনি জামিনে বেরিয়ে যান। বাচ্চু বাগানবাড়ি ইউনিট স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

আমাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

ভাষানটেক থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পিআরপি স্কুলের পেছনের মাদকের স্পটে জড়ো হচ্ছিল মাদকসেবী ও বিক্রেতারা। এ সময় সেখানে ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর ছাব্বির আহম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল চারদিক দিয়ে তাদের ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করে। প্রায় একই সময় ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের বাসা থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মিনহাজুল আবদিনকে গ্রেফতার করে।

ভাষানটেক থানা পুলিশ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেল থেকে ওসি ছাব্বির আহম্মদের নেতৃত্বে থানার কয়েকটি দল ভাষানটেকে মাদক স্পট হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন বস্তিতে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছিল।