বিনা অপরাধে তিন বছর ধরে জেল খাটা টাঙ্গাইলের জাহালমের বিষয়ে দাখিল করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ বলে মন্তব্য করে হাইকোর্ট বলেছেন, নিরপরাধ জেনেও জাহালমের জামিনের ব্যবস্থা না করার দায় দুদককেই নিতে হবে।
হাইকোর্ট বলেন, ‘দুদক একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এর ভাবমূর্তি মানুষের কাছে খারাপ হোক, তা কাম্য নয়।’
আজ বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
এ সময় আদালত দুদকের দাখিল করা ২৬ মামলার যাবতীয় নথি তলব করেছেন। আগামী ১০ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এসব নথি হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ সময় বিস্তারিত রিপোর্ট কীভাবে গণমাধ্যমের কাছে গেল, সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন আদালত। জাহালমের ঘটনায় জড়িত সব ব্যাংককে পক্ষ করার নির্দেশ দেন আদালত। সেইসঙ্গে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরকেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আর ভুক্তভোগী জাহালমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত।
দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, এ ঘটনায় দুদক তোপের মুখে। তাই গণমাধ্যমকে কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাহালমকে ২৬ মামলায় অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরো সাত মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায়, ওইসব মামলা থেকে তাঁর অব্যাহতির বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি আদালত। ফলে কারামুক্তি পান জাহালম।
গতকাল মঙ্গলবার বিনা অপরাধে তিন বছর ধরে জেল খাটা টাঙ্গাইলের জাহালমের মামলার বিষয়ে আজ আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে দুদক। ৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে
‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা, মামলার বাদীসহ চারজনকে তলব করেন বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতিকে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এ ছাড়া রুলও জারি করেছেন। রুলে কারাগারে থাকা ‘ভুল’ আসামি জাহালমকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না এবং তাঁকে মুক্তির কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্টরা হাজিরের পর হাইকোর্ট জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেন।
ওই দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্যার, আমি জাহালম। আমি আবু সালেক না, আমি নির্দোষ।’ আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো লোকটির বয়স ৩০-৩২ বছরের বেশি না। পরনে লুঙ্গি আর শার্ট। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এ বিচারকের উদ্দেশে তাঁকে বারবার বলতে দেখা যায়, ‘আমি আবু সালেক না।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবু সালেকের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন এই জাহালম। তিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক।
এমআর





