একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এখনই প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করবেন না বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী আয়েশা খন্দকার।

ছেলে ব্যারিষ্টার আরমান নিখোঁজ থাকায় এখনই প্রাণ ভিক্ষার আবেদন না করার বিষয়ে মীর কাসেম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

পরিবারের ছয় সদস্য মীর কাসেম আলীর সাথে দেখা করেছেন। এর মধ্যে মীর কাশেম আলীর স্ত্রী আয়েশা খন্দকার, মেয়ে সুমাইয়া, ছেলের বউ তাহেরা তাসনিম রয়েছেন।

এর আগে অনুমতি পেয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ মীর কাসেমের সাথে দেখা করার জন্য মিরপুরের বাসা থেকে সকাল সাড়ে দশ টায় রওনা দেয় তার পরিবার।

এদিকে মীর কাশেম আলীর ফাঁসি কোন কারাগারে হবে এ বিষয়ে কারা মহাপরিচালক সৈয়দ ইফতেখার বলেন, ক্ষমা চাওয়ার জন্য মীর কাসেম সাত দিনের সময় পাবেন।

তবে কোন কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করা হবে এখনো তা ঠিক করা হয়নি। তবে ফাঁসি কার্যকর করার জন্য যে কোন কারাগারই সব সময় প্রস্তুত থাকে বলে জানান তিনি।

এর আগে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলসুপার প্রশান্ত কুমার বনিক জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে মীর কাসেম আলীকে তার রিভিউ আবেদন খারিজের রায় পড়ে শোনানো হয়।

কারা সূত্রে জানা গেছে, রায় শোনার পর তিনি কিছুটা চিন্তিত ও তার চোখে মুখে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে তিনি কারাগারে তার কাছে থাকা রেডিওর মাধ্যমে রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায় শুনেছিলেন।

মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মীর কাসেম আলীর রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায়ের কপি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এসে পৌঁছে দেয়া হয়।

রাত অনেক বেশি হওয়ায় রাতে মীর কাসেম আলীকে তা পড়ে শোনানো হয়নি। পরে বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে রায় পড়ে শোনানো হয়।

৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেম আলী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির কনডেম সেলে বন্দী রয়েছেন। গ্রেফতারের পর ২০১২ সাল থেকে তিনি এ কারাগারে রয়েছেন। ২০১৪ সালের আগে তিনি এ কারাগারে হাজতবাসকালে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দীর মর্যাদায় ছিলেন। পরে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তির পর তাকে ফাঁসির কনডেম সেলে পাঠানো হয়।

ইআর/এসএম/এমবি