রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে সংঘবদ্ধ চোরের দল দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। প্রতিদিন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডেঘটছে চুরির ঘটনা।
গত ২২ দিনে হাসপাতালের ৪০টি ওয়ার্ডে ৫০টির বেশিচুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের খোয়া গেছে ওষুধ, টাকাসহ নানান জিনিসপত্র।
এসব চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীরা। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজসে এসব চুরির ঘটনা ঘটছে। এনিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেওরোগীদের অভিযোগ।
হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালের কর্মচারী পরিচয়ে অথবা কর্মচারীদের সহযোগিতায় এলাকার বখাটেরাওয়ার্ডে যখন-তখন ঢুকে পড়ে। রোগী ও স্বজনদের অসতর্কতার সুযোগে তাদের ওষুধ ওজিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে পালিয়ে য়ায়।
হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য কোনো পুলিশ বা আনসার নেই, এখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে হাসপাতালের কর্মচারীরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গাইবান্ধার আসলাম, হামিদ, পীরগঞ্জের সুমি, রেবেকা, নীলফামারীর আফজাল, বাবু মিয়াসহ বেশ কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, সংঘবদ্ধ চোর দলের দৌরাত্মে তাদের জিনিসপত্র, মোবাইল ফোন, ওষুধ, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান মালামাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অথচ এর কোনো প্রতিকার তারা পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক, সিস্টার, বয় ও আয়াদেরকে চুরির বিষয়ে তাৎক্ষণিক জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপনেওয়া হয় না। এজন্য রোগী ও তাদের স্বজনরা অসহায়।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বকুল হাসপাতাল থেকে মালামাল চুরি যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
তিনিবলেন, বহিরাগত বখাটেরা এসব চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে কর্মচারী সমিতি, নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের সহায়তায় সেপ্টেম্বর মাসে ১০ জন চোরকে আটক করে পুলিশে দেওয়ারপর চুরি অনেকটাই কমে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী আবুল কাশেম জানান, বুধবার বিকালে তার ছেলে খাবার আনতে বাইরে যাওয়ার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। আধা ঘণ্টা পর ছেলে ফিরে এসে দেখেন টাকা-ওষুধ সবই খোয়া গেছে।
ওয়ার্ডে ওই সময় দায়িত্বরত নার্সকে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি বলে তিনি জানান।
মহিলাওয়ার্ডের রোগী আফরোজা বেগম বলেন, সোমবার সকালে তার স্বামী কাজে বাড়িতেযান। অসতর্কতার কারণে বেশকিছু ওষুধ ও বিছানার নিচে রাখা দুই হাজার টাকাচুরি হয়ে গেছে।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, চুরি যাওয়া ওষুধ স্বল্প মূল্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এর আশপাশের কিছু দোকানে বিক্রয় হয়ে থাকে।
এতেকরে চিকিৎসা নিতে আসা দুঃস্থ অসহায় গরিব রোগী ও স্বজনরা চরম বিপাকে পড়ছেন। প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা কর্তৃপক্ষ জানলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
রোগীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্তপরিচালক ডা. আবদুল কাদের খান বলেন, গত ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্তহাসপাতালের ৪০টি ওয়ার্ডে ৫০টির বেশি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরির বিষয়েলিখিত কোনো অভিযোগ নেই।
তবে রোগীদের পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। চোর ধরতে কর্মচারীদের তৎপর থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক।
এএইচ





