দুই দিন পর রাজধানীর রামপুরায় বনশ্রী এলাকায় র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই যুবকের এক জনের পরিচয় মিলেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় নিহতের স্ত্রী শাহিনুর বেগম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে এসে লাশ সনাক্ত করেন।
নিহতের নাম আবুল কালাম আজাদ (৩৫)। তার পিতার নাম খোরশেদ আলী। গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার বাপ্তা এলাকায়। তার তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর চাঙ্কিরটেক এলাকায় স্বপরিবারে থাকতেন।
শাহিনুর বেগম জানান, গত ২১ ডিসেম্বর আজাদ বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। আজাদ রেন্ট এ কারের গাড়ি চালাত। এ সুবাদে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন করতেন। ছয় মাস আগে আজাদ ছিনতাইয়ের অভিযোগে জেল থেকে বেরিয়েছে। একবার বাসা থেকে বের হলে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করত না।
এর আগে গতকাল রোববার বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল রিপোর্টও তৈরি করা হয়। এরপর লাশের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাশ সনাক্ত হওয়ায় তার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে পুলিশ জানতে পেরেছে, গোয়েন্দা পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই করে বেড়াত। এর আগেও সে ছিনতাইয়ের অভিযোগে জেল খেটেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাত আড়াইটার দিকে বনশ্রীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিপরীত পাশে র্যাবের সঙ্গে ওই দুই যুবকের ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় উভয়পক্ষের চার জন আহত হন। র্যাবের আহত দুই সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আর গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর র্যাবের মিডিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক মাকসুদুল হক জানান, রাতে বনশ্রী এলাকায় র্যাব চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। দুই যুবক চেকপোস্ট অতিক্রম করতে গেলে র্যাব তাদের গতিরোধ করে।
এ সময় তারা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করে। র্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। এতে ওই দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় র্যাবের দুই সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি থেকে অস্ত্র, গোয়েন্দা পুলিশের জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ও হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে।
এএইচ





