আদালত অবমাননার মামলায় ট্রাইব্যুনাল জরিমানা নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও, তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না।

দেশের বিশিষ্ট এই নাগরিকের আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমাম এ কথা জানিয়েছেন।

আদালত অবমাননার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত নিউ এজ পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদনের সম্পাদক ডেভিড বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশের ৫০ জন নাগরিক গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিবৃতি দেন।

মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির পরে বিবৃতি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলে ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল ৪৯ বিবৃতিদাতার কাছে তাদের বিবৃতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চায়। পরে বিবৃতির জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় ২৬ জন বিবৃতিদাতাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় ট্রাইব্যুনাল।

বাকি ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১লা এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার রুল দেয়। গত ১০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জাফরুল্লাহকে আদালত অবমাননার দায়ে এক ঘণ্টার জেল এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়। অবশ্য অন্য ২২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেয় আদালত।

গত ১০ জুন ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠককে এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে কারাদণ্ড কার্যকর করা হয়। এছাড়া পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার দেয়ার সময়সীমা বেধে দেয়া হয় ১৬ জুন পর্যন্ত।

কিন্তু ডা. জাফরুল্লাহ জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করলে ৫ জুলাই পর্যন্ত তা স্থগিতের নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে এই স্থগিতাদেশের মধ্যেই ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে জরিমানা না দেয়ার কারণে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমাম জানান, ‘সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ আগেই ৫ জুলাই পর্যন্ত জরিমানার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এরপরও ট্রাইব্যুনাল কিভাবে গ্রেফতারিপরোয়ানা জারি করলো, তা আমি বুঝতে পারছি না।’

‘আমার মনে হয় কোনো মিস কমিউনিকেশন হয়েছে। আমরা আপিল বিভাগকে জানাবো’ যোগ করেন তিনি।

ব্যারিস্টার আখতার বলেন, ‘গত ১৬ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার জজের কাছে আমরা আবেদন করি। এরপর ফুল বেঞ্চে পাঠান হয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের সামনেই আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ দেয় এবং আদেশ ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে আপিল বিভাগ।’

তিনি বলেন, ‘জাফরুল্লাহ চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করবেন না।

আত্মসমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না, কারণ আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের খবর সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ হয়েছে। আর আদেশের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ৫ জুলাইয়ের আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে না।’

ডা. বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানার ব্যাপারেও আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না।’

এদিকে ১০ জুন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শfস্তি দেয়ার পর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণের মুখে সবাই যখন নিরাপদ আশ্রয়য়ের জন্য ছোটাছুটি করছিল, তখন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিদেশে নিরাপদ জীবন ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।’

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ডা. চৌধুরীর মতো ত্যাগী, প্রতিবাদী ও সর্বাঙ্গীন মুক্তিযোদ্ধাকে শাস্তি প্রদান দেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশকেই শাস্তি প্রদানের সামিল।’সূত্র: ডয়চে ভেলে।

কেএইচ