রাজধানীতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল টাকা তৈরির সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাও। বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে সাবেক-বর্তমান এবং চাকুরিচ্যূত ব্যাংক কর্মকর্তারা মিলে ব্যাংকের মাধ্যমে জালনোট সয়লাভ করার কাজটি করছে।
এখানেই শেষ নয়। তারা অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে জালনোট তৈরি করতে দক্ষ লোকবল খাটাচ্ছে। আগামী ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে অর্থ বাজারে ২০ কোটি টাকার জাল নোট ছাড়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে এই সিন্ডিকেট।
জাল নোট তৈরিকারক এই সিন্ডিকেট তিন স্তরে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে। প্রথম গ্রুপ টাকা তৈরির কাগজ সরবরাহ করে। তারা টাকার যাবতীয় নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত কাগজ তৈরি করে এবং সরবরাহ করে।
পরে অপর গ্রুপ উক্ত কাগজে কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে টাকার ছাপায়। সেখান থেকে সরবরাহকারী গ্রুপের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজারজাত করা হচ্ছে জাল টাকা।
জাল নোট তৈরিকারক এই সিন্ডিকেটের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য বেড়িয়ে এসেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ২০ লাখ জাল টাকা ও ১০ লাখ ভারতীয় রুপি উদ্ধার করেছে।
উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও রুপি তৈরির সরঞ্জামাদি। এসময় জাল নোট তৈরির সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত ৭ জনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জালিয়াত চক্রের মূলহোতা শাহ আলম (২৮), জহিরুল ইসলাম ওরফে খোকন (৩২), আমিনুল ইসলাম (৩৫), শাহীন সিকদার (৪০), হাবিব (২৫), শম্ভুনাথ সরকার (৪৮) ও কাওসার আহম্মেদ (৩৮)।
মূল হোতা শাহ আলম এর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে টাকা তৈরির কাগজ, ফ্রেম, নিরাপত্তা সুতা, রং, কেমিক্যাল, ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও কালির কার্টিজ উদ্ধার করা হয়।
জাল নোট তৈরির এই সিন্ডিকেট সম্পর্কে ডিসি (পশ্চিম) শেখ নাজমুল আলম পিপিএম বার টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে সক্রিয়। এই সিন্ডিকেটটিকে সনাক্ত করতে সময় লেগেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মূলহোতাসহ ৭ জনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা রিমান্ডের আবেদন জানাবো। পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে জানার চেষ্টা করা হবে আর কে বা কারা এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত।
এ ব্যাপারে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ন কমিশনার মনিরুল ইসলাম টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ী ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরীর কারখানা স্থাপন করে বিপুল পরিমান জাল টাকা, ভারতীয় রুপি, ডলার, ইউরোসহ মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের টাকা তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা ঢাকাসহ সারাদেশে বাজারজাত করে থাকে।
আগামী ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ জাল টাকার বাণিজ্য করতে জালিয়াত চক্রটি কাজ করে আসছিল। এলক্ষ্যে বিশ কোটি টাকার বাণিজ্য চিন্তা ছিল তাদের।
মনিরুল ইসলাম আরও জানান, গ্রেফতারকৃত সিন্ডিকেটটি তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে সক্রিয় ছিল। প্রথম গ্রুপ টাকা তৈরির কাগজ সরবরাহ করে। তারা টাকার যাবতীয় নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত কাগজ তৈরি করে মূলহোতা শাহ আলমের চাহিদা অনুয়ায়ী তার নিকট সরবরাহ করত।
পরবর্তী সময়ে শাহ আলম, কাওসার ও খোকন উক্ত কাগজে কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে টাকার ছাপিয়ে সরবরাহকারী গ্রুপের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজারজাত করত। এই সরবরাহকারী গ্রুপে আছে আমিনুল ইসলাম, শম্ভুনাথ সরকার, শাহীন প্রমুখ ।
গ্রেফতারকৃত আমিনুল ইসলাম রাজশাহী অঞ্চলে জালটাকা সরবরাহ করত। টাকার পাশাপাশি সে রাজশাহীর বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় নিযুক্ত তার এজেন্টদের মাধ্যমে জাল ভারতীয় রুপি ভারতের বিভিন্ন লোকদের সরবরাহ করত।
গ্রেফতারকৃত শম্ভুনাথ সরকার ঢাকার সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। ক্যাশ সেকশনে কাজ করার সুবাদে সে জাল টাকা আসল টাকার সাথে মিশিয়ে ব্যাংকের ক্যাশে জমা করত। পরবর্তী সময়ে এই অভিযোগে শম্ভুনাথকে চাকুরিচ্যুত ও গ্রেফতার করা হয়।
কোন কোন ব্যাংকের মাধ্যমে এবং কোন কোন ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আটককৃতদের এখনো রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। জাল নোট তৈরির বিষয়টি উচ্চতর তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ন কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
ঢাকা, জেইউ, ৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





