‘আচ্ছা এটাই কি পাখি ড্রেস’? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাড়ি ও চাদর পরা একটি ছবিতে এমন মন্তব্য করায় গ্রেফতার হয়েছেন শামসুজ্জোহা (৪৩) নামে এক ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে শামসুজ্জোহা এ মন্তব্য করেন। আর এতে কটূক্তির অভিযোগ এনে তাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
‘পাখি’ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের একটি বহুল আলোচিত কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র। সেই পাখির ড্রেসকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে মন্তব্য করায় দেশে অরাজকতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে শামসুজ্জোহার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি এ্যাক্ট) ৫৭ ধারায় রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি মামলাও হয়েছে।
গ্রেফতারের পর তাকে ৫ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারির পর মঙ্গলবার বিকালে ভাটারা এলাকার গ্রামীণফোন হাউজ (জিপি হাউজ) ভবনের ১০ তলায় তার কর্মস্থল ওয়েস্ট উইং থেকে বিকাল ৩টায় ডিবি উত্তরের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, শামসুজ্জোহার ফেসবুক এ্যাকাউন্টটি দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল। তিনি বিভিন্ন সময় ফেসবুকে সরকার বিরোধী স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে গোয়েন্দারা প্রমাণ পেয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীবর্গের ছবি নিয়েও একাধিকবার তিনি কটূক্তি করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘শামসুজ্জোহা তার ফেসবুক এ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাদর এবং শাড়ি পরা ছবিতে ‘আচ্ছা এটাই কি পাখি ড্রেস?’কমেন্ট লিখে কটূক্তি করেছেন। এছাড়াও ‘৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম ও মহাজোট সরকার বাহাদুরের পাপের কলসী’শিরোনামে অপর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তার এই স্ট্যাটাসে অজ্ঞাতনামা কেউ কেউ ‘লাইক’ও ‘শেয়ার’করেছেন।
মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়, ‘শামসুজ্জোহা ফেসবুকে মিথ্যা, আপত্তিকর, মানহানিকর মন্তব্য, কটূক্তি করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি সংক্ষুব্ধ হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে সার্বভৌম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও আপত্তিকর মন্তব্য করে অরাজকতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছেন।’
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘শামসুজ্জোহা ২০১৩ সালের ৬ মে থেকে ২৫ জুলাইয়ের সধ্যে নিজ বাসায় অবস্থান করে এসব অপপ্রচার চালিয়েছেন।’
এ বিষয় উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তের পর জানা যাবে তিনি কেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন।
ঢাকা, ২০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ





