পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় চার্জশিট থানায় দাখিল করে নম্বর নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।

বৃহস্পতিবার উপ-পরিচালক আব্দুস সোবহান রাজধানীর ওয়ারি থানায় এ চার্জশিট দাখিল করে নথিতে নম্বর সংগ্রহ করেন। তবে ঈদের পর ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে আলামত এ মামলার নথিপত্রসহ (সিডি) জমা দেবেন।

দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিনব পদ্ধতিতে পূবালী ব্যাংকের রামকৃষ্ণ মিশন রোড শাখার কর্মকর্তা মশিউল আলম ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ টাকা হাতিয়ে নেন।

এ ঘটনায় গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মশিউল আলমের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ এবং ১৯৪৭ সলের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করে। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হয়।

এদিকে দুদকের উপ-পরিচালক আব্দুস সোবহান মামলাটি তদন্ত করে চার্জশিট তৈরি করেন। চার্জশিটে আসামি মশিউল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি পূবালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে আসা ডিডির বিপরীতে প্রকৃত গ্রাহককে পেমেন্ট করতেন।

পরে ওই ডিডি নম্বরে বাড়তি একটি ডিজিট বা সংখ্যা বসিয়ে একই ডিডির বিপরীতে আরেকটি ভুয়া পেমেন্ট দেখাতেন। ওই পেমেন্টের অর্থ তিনি নিজের এবং বেনামে করা আরও দুটি একাউন্টে রাখেন। এভাবেই আসামি মশিউল আলম ৮২টি ড্রাফটের বিপরীতে দীর্ঘ সময় ধরে সরিয়ে নেন উপরোক্ত অংকের অর্থ।

অভিযোগে বলা হয়, আসামি মশিউল আলম নিজের এবং বেনামী আরও দুটি হিসাব নম্বর ব্যবহার করেন। সামিনা আক্তার নামে এক স্কুল ছাত্রীকে শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের কথা বলে ফটো ও ভোটার আইডি নেন। সেগুলো ব্যবহার করে পূবালী ব্যাংকে একাউন্ট খোলেন। একাউন্টের চেক বই অগ্রিম স্বাক্ষর করিয়ে মশিউল নিজের কাছে রেখে দেন। পরে চেক ব্যবহার করেন ইচ্ছে মতো।

সামিনার নামে একজনের একাউন্টের মাধ্যমে মশিউল আলম হাতিয়ে নেন ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। নিজের একাউন্টের (নং-৯৮৫০০) মাধ্যমে হাতিয়ে নেন ৮৯ লাখ ২ হাজার ৭৯৫ টাকা। মিজানুর রহমান নামে দৈনিক ইত্তেফাকের এক কর্মচারিকে দিয়ে একাউন্ট খুলে হাতিয়ে নেন ৩৩ লাখ টাকা।

এদিকে পূর্বালী ব্যাংকের অডিটে অর্থ সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি ধরা না পড়লে আসামি মশিউল আলম নিজেই অপরাধ স্বীকার করেন। দুদক তাকে রিমান্ডে নিলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দেন। তিনি বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

ঢাকা, একে, ২৪ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর