মানবপাচার চক্রের সঙ্গে বিমানবন্দরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগসাজশের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ।
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা ভবনে অভিযান চালিয়ে ৮৫০টি বিভিন্ন দেশের জাল পাসপোর্ট ও শিপিং লাইনের ৪০টি ডিসচার্জ জাল সনদসহ ৪ মানবপাচারকারীকে আটকের ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আটককৃতরা হলেন, মহিদুল ইসলাম (৪৫), হিম্মত আলী (৩৮), মো. রাসেল (২৩) ও মো. উজ্জল খান (২০)। এ সময় ৪ ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে শাপলা ভবনের ৮ম তলার একটি কক্ষ থেকে ওই ৪ জনকে আটক করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের কোতয়ালী ইউনিট।
এ সময় মো. আশরাফুল ইসলাম (৩৫), মোহাম্মদ আলী (৩৫), আবুল কালাম আজাদ (২৮) ও মো. সাইফুল ইসলাম (২৪) নামে ৪ ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার করে আসছে। তারা টাকার বিনিময়ে জাল পাসপোর্ট ও ডিসচার্জ জাল ভিসা বানিয়ে প্রতারণা করে আসছিল।
এ সময় ইরাক, দুবাই, লিবিয়া, মোজাম্বিক, মিশর, ওমান, সৌদি আরব, কাতার, ইথিওপিয়া, মালয়েশিয়া, নাইরোবিসহ বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা, এয়ার টিকেট, সাগর পথে বিদেশে মানবপাচারের শিপিং লাইনের ডিসচার্জ জাল সনদ, বিভিন্ন বিমানবন্দরের এরাইভ্যাল, ইমিগ্রেশন জাল সীল, বিভিন্ন দূতাবাসের জাল সীল, প্যাড উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মানবপাচারকারী এ চক্রের প্রধান মো. টিপু সুলতান, মজিবর রহমান, মো. ইসমাইলসহ ৭জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। পলাতকদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং আটকদের রিমান্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মানবপাচার ও পাচারচক্রের সঙ্গে বিমানবন্দরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগসাজশের অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ ব্যাপারেও তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান আব্দুল কাহার আকন্দ।
এমআর/এসএইচ





