যে চারটি হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণের দায়ে নিজামীর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে যেন সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকে সর্বোচ্চ আদালতে এর সপক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
বিশেষ করে একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সীমাহীন অপরাধ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তিই এ অপরাধের একমাত্র সাজা। ফাঁসি ছাড়া এর অন্য কোনো বিকল্প নেই।
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিল মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করার পর সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
সোমবার আপিল শুনানির দশম কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ মামলার শুনানি চলছে। অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যাসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) মোট চারটি অপরাধের দায়ে নিজামীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এসব অপরাধের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে ধর্ষণ এবং বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের দায়ও। অন্য যে চার অপরাধে নিজামী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পেয়েছেন সেগুলোও ছিল হত্যা-গণহত্যার সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অপরাধ।
সাংবাদিকদের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, চারটি চার্জে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেটা যেন বহাল থাকে তার জন্য জোরালো বক্তব্য দিয়েছি। ২, ৪ ও ৬ নম্বর অভিযোগে সাক্ষীরা বলেছেন, নিজামীর উপস্থিতির কথা। আর ১৬ নম্বর অভিযোগ হচ্ছে বুদ্ধিজীবী হত্যার অপরাধ। এ ব্যাপারে শুধু শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবাররাই নয় সারাদেশের মানুষ বিচার প্রার্থী। মানুষ ন্যায়বিচার চান। এ অপরাধের সাজা একটাই হতে পারে। সেটা হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা।
বুদ্ধিজীবী হত্যায় নিজামী সরাসরি ছিলেন কি-না সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, বিজয়ের উষালগ্নে নভেম্বর মাসে নিজামী আলবদর নিয়ে যে লেখা লিখেছেন তাতে অপকর্মে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সরাসরি মেরেছেন- এমন সাক্ষ্য দিতে হবে সেটা এ আইনে লেখা নেই। তার কর্মে পরিকল্পনা উৎসাহী হলে অপরাধী বলে গণ্য হবে।
শুনানির সময় হিটলারের বিষয়ে কি বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হিটলার নিজের হাতে কাউকে মেরেছেন এমন কোনো সাক্ষী নেই। কিন্তু এক বিশাল জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পনা করে নিধন করেছেন। একইভাবে আলবদররা মুক্তিযোদ্ধাদের নিধন করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
নিজামী উত্তেজক বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি যখন ছাত্রসংঘের সভাপতি তখন আলবদর গঠিত হয়। আর তারাই স্বীকার করেছেন, জামায়াতের লোকজনই আলবদরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন হচ্ছে এমন মামলা যে মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে হয় অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। তবে অপরাধের মাত্রা অনুসারে সাজা কমে বাড়ে। এখানে বুদ্ধিজীবী হত্যা সীমাহীন অপরাধ।
নিজামী সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না আসামিপক্ষের এমন যুক্তির জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মুজাহিদ ও ভারতের ইয়াকুব মেমনের রায় উল্লেখ করেছি। ইয়াকুব মেমন নিজের হাতে কাউকে মারেননি। মেমন ষড়যন্ত্র করেছেন। ১৯ বছর জেল খেটেছেন। এরপর তার ফাঁসি হয়েছে।
এমএইচ





